>

default-image

সড়কের দুই পাশে নর্দমার সংস্কারকাজ হয়ে গেলেও সড়কটির মেরামতকাজ হয়নি। বৃষ্টি হলেই জমে পানি।

প্রায় ৪০০ মিটার সড়ক তিন বছর ধরে সংস্কার হয়নি। এখন বৃষ্টি হলেই সেই সড়কে জমে পানি। আর পানিতে ছোটাছুটি করে বেড়ায় টাকি কিংবা কই মাছ।

এমন চিত্র সিলেট নগরে হাতিমবাগ এলাকার সড়কের। সিলেট সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিমবাগ আবাসিক এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস। সড়কের দুই পাশে নর্দমার সংস্কারকাজ হয়ে গেলেও সড়কটির মেরামতকাজ হয়নি। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দাসহ পথচারীরা।

২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় এ সড়কটি মেরামতের কথা জানিয়েছিলেন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুর রকিব তুহিন। নির্বাচনে ফের তিনি বিজয়ী হয়ে ওয়ার্ডের দায়িত্ব পান। গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে আমি সড়কটি সংস্কারের কথা জানিয়েছিলাম। তবে সড়কটি এখনো সংস্কার করতে পারিনি। এ নিয়ে আমি করপোরেশনে একাধিকবার কথা বলেছি। সর্বশেষ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে আমি নগর ভবনে গিয়ে মেয়রসহ প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাঁরা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের কথা জানালেও এখনো সেটি হয়নি।’

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে ২১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার এ সড়কটিসহ কয়েকটি সড়ক সংস্কারের দরপত্র হয়। হাতিমবাগ এলাকার সড়কটির কাজ পান আনোয়ার কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। দরপত্র হওয়ার পর অন্যান্য সড়ক মেরামত হলেও এ সড়কটি মেরামত হয়নি। ২০১৮ সালে নির্বাচন থাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে কিছু বাধ্যবাধকতাায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। 

নগরের হাতিমবাগ ও লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এখন বৃষ্টি হলে সড়কে মানুষ মাছ শিকারে বের হয়। বাসিন্দারা জানান, গত বছরের মাঝামাঝিতে সড়কটির একটি অংশ সংস্কারকাজ শুরু হয়। সড়কটির দুই পাশের নর্দমাও নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রায় ৪০০ মিটার সড়কটি মেরামত হয়নি। এখন সড়ক থেকে দুই পাশের নর্দমা উঁচু হয়ে রয়েছে। যার ফলে সড়কে পানি জমে থাকে। নর্দমার সঙ্গে সড়কের সংযোগস্থল থেমে মাছ বেরিয়ে সড়কে উঠে আসে। মানুষের শব্দ শুনলে ফের নর্দমায় চলে যায় মাছগুলো।

সড়কের এক পাশে মাহাদী স্টোর নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে কথা হয় স্থানীয় রাসেল আহমদের সঙ্গে। তিনি জানান, সড়কটি অনেকটা ভেতরের দিকে হওয়ায় অনেকেই স্থানীয় লোকজনের দুর্ভোগের বিষয়টি বুঝতে পারেন না। বর্ষা মৌসুমে কয়েক শ মিটারের সড়কের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাদাপানি মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

default-image

ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুর রকিব বলেন, সড়কটির সংস্কারকাজের ব্যাপারে স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে নিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রকৌশলীর সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের কথা জানিয়েছেন। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

আনোয়ার কনস্ট্রাকশনের পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ওই এলাকার একটি নর্দমা এবং এমডিএসপির (বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প) কাজ রয়েছে। সেটি শেষ না হলে সড়কটি মেরামত শেষ করা সম্ভব হবে না। নর্দমা এবং এমডিএসপির সঙ্গে সড়কটির সংস্কারকাজে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।

সিটি করেপারেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানিয়েছেন। রমজানের আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি আবহাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সে সঙ্গে শুষ্ক মৌসুম ছাড়া সড়কটি সংস্কার সম্ভব হবে না। সামনের সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর মাসে সড়কটির সংস্কারকাজ করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0