>সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর হলো। এই সময়ে রাজধানীর অনেক স্থানেই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। আবার কোথাও এখনো কোনো কাজই হয়নি। এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা, অভাব-অভিযোগ, সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ওয়ার্ডের চালচিত্র
default-image

বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা ময়লা রাখার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্মাণ করা হয়েছে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস)। কিন্তু ডিএনসিসির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এসটিএস না থাকায় সড়কজুড়ে পড়ে থাকছে ময়লা-আবর্জনা। এতে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে পথচারীদের।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রায় দুই বছর হতে চললেও এই ওয়ার্ডের বেশির ভাগ সড়ক ভাঙাচোরা। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। ওয়ার্ডে নেই খেলার মাঠ, সরকারি কমিউনিটি সেন্টার। মধ্য মণিপুর এলাকায় ওয়াসার একটি গভীর নলকূপে উৎপাদন প্রায় বন্ধ থাকায় পানির সংকটও আছে। ওয়ার্ডের বড়বাগ এলাকায় গ্যাসের সমস্যার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।
গতকাল রোববার ডিএনসিসির ১৩ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে এবং এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। মণিপুর, মধ্য ও উত্তর পীরেরবাগ, বড়বাগ এলাকা নিয়ে ওয়ার্ডটি গঠিত। প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ওয়ার্ডে দুই লক্ষাধিক লোকের বাস।
বাসাবাড়ির ময়লা রাখার জন্য ডিএনসিসির বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্মাণ করা হয়েছে এক বা একাধিক অস্থায়ী ঘর, যেগুলো এসটিএস নামে পরিচিত। জায়গা না পাওয়ায় ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে এসটিএস নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান স্থানীয় কাউন্সিলর হারুন-অর-রশিদ। এ কারণে ওয়ার্ডের অন্তত পাঁচ জায়গায় খোলা অবস্থায় পড়ে থাকছে ময়লার কনটেইনার। ২০১৫ সালে তিনি দায়িত্ব নেন।
মিরপুর থেকে মণিপুর, পীরেরবাগ হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত নতুন ৬০ ফুট সড়কের অন্তত তিন জায়গায় রাখা হয়েছে ময়লার কয়েকটি কনটেইনার। এগুলো এলোমেলোভাবে রাখায় সড়কের প্রস্থ কমে গেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাসা থেকে সংগ্রহ করা ময়লা এনে সড়কের ওপর ঢেলে কনটেইনারে তুলছেন। দুর্গন্ধে নাকাল পথচারী ও পরিবহনের যাত্রীরা।
মণিপুর স্কুলের বালক শাখার মূল ফটকের খানিক দূরেই এমন কয়েকটি কনটেইনার রাখা। অভিভাবক রিফাত শারমিন বলেন, পীরেরবাগের বাসা থেকে স্কুলে আসা পর্যন্ত এমন কয়েক জায়গায় ময়লা পার হতে হয়। দুর্গন্ধে শিশুদের কষ্ট বেশি হয়। দেখতেও খারাপ লাগে।
৬০ ফুট নতুন রাস্তা নাম হলেও অবৈধভাবে দখল হওয়ায় সড়কটির অনেকাংশে প্রস্থ কমে এখন কোথাও ৩০, কোথাও ৪০ ফুট। সড়ক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট এবং মোটরসাইকেল, গাড়ি ও রিকশা মেরামতের গ্যারেজ।
সড়কটি ডিএনসিসির দুটি ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। মণিপুর অংশটুকু ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। সড়কের এই অংশে বাড়িঘরের নির্মাণসামগ্রী রাখায় ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচল বন্ধ। বড়বাগ মোড়ে সড়কের ওপর সারি দিয়ে রাখা হয়েছে মহাখালী, ফার্মগেট পথে চলাচলকারী লেগুনা। এতে তৈরি হচ্ছে যানজট।
মোল্লাপাড়া এলাকার বারেক মোল্লা মোড়ে এসে সড়কটির একপাশের প্রস্থ ১০ ফুট হয়ে গেছে। পাশের জমির মালিকেরা সড়কের জায়গা বাঁশ-টিন দিয়ে ঘেরাও করে নিজেদের সীমানার ভেতরে নিয়ে নিয়েছেন। আরেক জায়গায় বাঁশের ঘেরাও দিয়ে তার মধ্যে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট।
এই ওয়ার্ডের বেশির ভাগ সড়ক ভাঙাচোরা। মূল সড়কগুলোর পাশাপাশি ভেতরের বিভিন্ন সড়ক খানাখন্দে ভরা। মধ্য পীরেরবাগ শিমুলতলা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ইট ফেলে সড়কের গর্ত ভরাট করার চেষ্টা করেছেন। কয়েক দিন আগের বৃষ্টিতে সড়কে কাদা জমে আছে। শেষ কবে পিচঢালাই হয়েছে, বোঝার উপায় নেই। এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিটি সড়কই চলাচলের অনুপযোগী।

default-image

‘এসটিএস না করতে পারাটাই বড় সমস্যা’
প্রথম আলো: দুই বছরেও এসটিএস হলো না কেন?
কাউন্সিলর: ওয়ার্ডে দুটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন প্রয়োজন। এসটিএস নির্মাণ করা হলে সড়কে থাকা ময়লার কনটেইনারগুলো সরিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু পুরো ওয়ার্ডে একটি এসটিএস করার মতো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। জমি অধিগ্রহণ ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়।
প্রথম আলো: দুই বছরে আপনার উল্লেখযোগ্য কাজ কী?
কাউন্সিলর: ওয়ার্ডে ৮ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলছে। পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানো ও সড়ক সংস্কার হচ্ছে। কয়েকটি প্রকল্প সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়া আছে। এই প্রকল্পগুলো পাস হয়ে গেলে এবং আগামী বছরের বাজেটে বরাদ্দ পেলে ভাঙা সড়কের সমস্যা থাকবে না।
প্রথম আলো: ৬০ ফুট সড়ক দখলমুক্ত করবেন কি?
কাউন্সিলর: ৬০ ফুট সড়কের অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। উচ্ছেদের পরেই আবার দখল হচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, প্রতিদিনই যেন উচ্ছেদ অভিযান চালাতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন