সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি। গতকাল রোববার সমিতির পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ২৮ দফা দাবিনামার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইনের একটি খসড়া তৈরি করেছে সরকার। এটি এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এরপর সংসদে পাসের জন্য তোলা হবে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির ২৮ দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী চালক, চালকের সহকারী, যানবাহনের মালিক, যাত্রী, সড়ক নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, সড়ক তদারক কর্মকর্তা, ঠিকাদার, বিলবোর্ড স্থাপনকারী, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বা অন্য যেকোনো ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মামলা ৩০২ ধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ‘সড়ক দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা তহবিল’ গঠন করে দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী পরে প্রথম আলোকে বলেন, আইন ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও আলাদাভাবে স্মারকলিপির কপি দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের বিধান দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া মৃত্যুর মিছিল কমানো যাবে না। আমরা কোনো সম্প্রদায়কে দায়ী করছি না। আইনে মৃত্যুদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা হলে পুলিশের দায়িত্ব হবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা।’

যাত্রীকল্যাণ সমিতি মনে করে, প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি। এ জন্য গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ ও ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটিতে মালিক-শ্রমিকদের সংখ্যানুপাতে যাত্রী প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাত্রী হয়রানি ও প্রতারণা বন্ধে বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় যাত্রী প্রতিনিধি রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন