সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে পারে রেল ও নদীপথ

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে পারে রেল ও নদীপথ। ৭৫ ভাগ মালামাল দেশের মহাসড়কগুলোতে বহন করা হয়। এ জন্যই দুর্ঘটনা বেশি ঘটে আর বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। এসব মালামাল যদি রেল বা নদীপথে বহন করা হতো, তাহলে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসত। প্রাণ বেঁচে যেত অনেক মানুষের।

default-image

প্রথম আলোর আয়োজনে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, নিরাপদ সড়ক চাই এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) সহায়তায় ‘সড়ক দুর্ঘটনারোধে কার্যকর উদ্যোগ চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মোয়াজ্জেম হোসেন এসব কথা বলেন। প্রথম আলো কার্যালয় মিলনায়তনে আজ সোমবার বিকেলে এ গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়।

২৪ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীকে হারিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর থেকে তিনি সড়কে দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। নিরাপদ সড়ক চাই-এর নানা কার্যক্রমের কারণে সড়কে ২০৬টি বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা (ব্ল্যাক স্পট) থেকে কমে ৬৫-তে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, এখন অনেকে মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার করেন না। এটি করলে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসবে। দুর্ঘটনা রোধে চালকদের আরও সচেতনতা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

default-image

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, গত আট মাসে ২৪২ দিন থেকে আমরা প্রতিদিনই সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। এই সময়ে সড়কে নানা দুর্ঘটনায় ২ হাজার ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। যাতে মানুষ ও চালকেরা আরও সচেতন হন, সে জন্য এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারি। তিনি পথচারী, বাস মালিক, চালককে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান বলেন, অনেকে সড়কে দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালককে দায়ী করেন। এটা ঠিক নয়। যাঁরা সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ করে নির্মাণ করছেন, তাঁদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। মালিকদের কোনো দোষ থাকলে তাঁদেরও বিচার হতে হবে। চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সময় ভালো করে তাঁদের পরীক্ষা নেওয়ার প্রতি জোর দেন তিনি। দুর্ঘটনার জন্য পথচারীরা ৭৪ শতাংশ দায়ী বলে মন্তব্য করে তিনি পথচারীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়কারী ভেলরি অ্যান টেলর বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে অনেক নারী আসেন, যাঁদের অনেকে ইজিবাইকে ওড়না পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তাহলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসবে।

দুর্ঘটনায় নিহত মিশুক মুনির ও তারেক মাসুদের সড়ক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে চিত্রশিল্পী ঢালি আল মামুন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা বলা যাবে না। এটি একধরনের হত্যাযজ্ঞ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা রোধে আমরা মালিকেরা নানা ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক সময় পথচারী ও রাস্তা খারাপ থাকার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বলে উল্লেখ করেন। দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম ও লোকবল বৃদ্ধি, প্রশাসনের মাধ্যমে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, সড়ক তৈরিতে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ কাজে লাগানোসহ নানা সুপারিশ করেন তিনি।

বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের প্রশাসন ও সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন বলেন, গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ জরুরি। এ ছাড়া যেসব বাস বিশ্বব্যাপী কম রেটিং পায়, সেসব এ দেশে আমদানি বন্ধ করতে হবে।

বিআরটিএ পরিচালক মাহবুব-ই-রব্বানি বলেন, আমরা চাই না মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাক। এ জন্য বিআরটিএ কাজ করছে। চালকেরা যাতে দৈনিক আট ঘণ্টা ও সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ না করেন, সে জন্য আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছি।

হাইওয়ে পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কারণে ২০১৬ সালের ঈদুল আজহা থেকে ২০১৭ সালের ঈদুল আজহায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জন কম নিহত হয়েছেন। ছাদে মানুষ না তোলা, মহাসড়কে নছিমন, করিমন, ইজিবাইক ইত্যাদি ছোট ছোট যান চলাচল কমিয়ে আনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলে। ভবিষ্যতে এটি আরও শক্ত হাতে করা হলে দুর্ঘটনা আরও কমে আসবে। তবে বিপুল কর্মযজ্ঞ চালাতে প্রয়োজনীয় জনবল নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গোলটেবিলে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মেয়ে ও আহত ছেলের কথা তুলে ধরেন দিলু রকিব। তিনি এ জন্য আরও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর জোর দেন। গোলটেবিল সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন