বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চেয়ারম্যান আতিকুরের বিরুদ্ধে চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উল্লেখ করে কাউন্দিয়া ইউপির চারজন সদস্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানান। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনের পরিচালক স্থানীয় সরকারকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরেজমিন তদন্ত করে চারটি অভিযোগের মধ্যে তিনটির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাউন্দিয়া ইউনিয়নের সিংগাসার আলী আহাম্মদ স্কুল থেকে বেলতলা মসজিদ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। ব্যক্তিমালিকানার ওপর ইটের কার্পেটিং দেওয়া সড়কটি ৬০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট প্রস্থের। তদন্তে দেখা যায়, সড়কের অনেকখানি অংশে কোনো মাটি ও ইট নেই। সড়কের কিছু অংশ পানির নিচে নিমজ্জিত। সড়কটি মানুষ ও যান চলাচলের অনুপযোগী।

চেয়ারম্যান আতিকুর সড়ক উন্নয়নের ৪০ লাখ টাকার মধ্যে কমবেশি ৮ লাখ টাকার কাজ করেন। সড়কে কিছু বালু ফেলা হয় এবং কার্পেটিংয়ের কিছু ইট দেওয়া হয়। বাকি ৩২ লাখ টাকা ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেছেন বলে তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে।

কাউন্দিয়া ইউনিয়নের বাকসাত্রা নদীর ঘাট থেকে আবু বক্করের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কারে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাবিখা ও টিআরের দেড় লাখ টাকার চাল বরাদ্দ ছিল। কিন্তু এই সড়কে কোনো সংস্কারকাজ না করেই চাল আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান আতিকুর। তদন্তে দেখা যায়, নদীর ঘাট থেকে আবু বক্করের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি নদীভাঙনের কবলে পরে। সরেজমিনে সড়কটি খুঁজেই পাওয়া যায়নি।

চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, অভিযোগগুলো ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দেওয়া হয়েছে।

কাউন্দিয়া ইউপির মাসিক সভার কার্যবিবরণীতে চারজন ওয়ার্ড সদস্যের স্বাক্ষর নেওয়া হয় না। মাসিক সভার বিষয়ে সদস্যদের কিছু জানানো হয় না। সদস্যরা স্বাক্ষর না করলেও কার্যবিবরণী স্বাক্ষরিত দেখিয়ে চেয়ারম্যান তাঁর পছন্দমতো বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। তদন্তের এই বিষয়েরও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ইসলামের বাড়ি থেকে পশ্চিমপাড়া নদীর ঘাট পর্যন্ত সড়কে মাটি ভরাটের কাজে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ আসে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আসা এই বরাদ্দের চাল চেয়ারম্যান আতিকুর আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তে দেখা যায়, ২০০ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট প্রস্থের সড়কটিতে কোনো মাটি ভরাট বা সংস্কারকাজ হয়নি। তবে এই বরাদ্দ ছিল সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ সাবিনা আকতারের বিশেষ বরাদ্দ। এর সঙ্গে চেয়ারম্যান আতিকুরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনটি ১১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ইউনিয়ন পরিষদ) মলয় চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় গতকাল তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন