মেয়রের অনুপস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় জানতে চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল টাঙ্গাইল পৌর পরিষদ। তবে গত মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া বৈঠক শেষে এ-সংক্রান্ত চিঠি তৈরির সময়ই পৌর কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয় থেকে ফ্যাক্সে একটি চিঠি পায়। চিঠিটিতে বলা হয়েছে, ‘অসুস্থতাজনিত’ কারণে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়রের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর ছুটি আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হলো।
পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খানের (মুক্তি) তিন মাসের ছুটি শেষ হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ছুটি শেষ হলেও তিনি পৌরসভায় যোগ দেননি। তিনি না আসায় ও পৌরসভাকে কোনো কিছু অবহিত না করায় করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার বিশেষ জরুরি বৈঠকে বসে পৌর পরিষদ। বৈঠকে মেয়রের অনুপস্থিতির বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা ও পরবর্তী করণীয় জানতে চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সেই চিঠি লেখা শেষ করার আগেই জানা গেল, ৪৫ দিনের ছুটি চেয়ে মেয়র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় তাঁর এই ছুটি মঞ্জুর করেছে।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র মানবেন্দ্র পাল প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে মেয়রের অনুপস্থিতির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু চিঠি তৈরি করার আগেই মন্ত্রণালয়ের চিঠি চলে আসে। তিনি বলেন, পৌর পরিষদের বৈঠকে মেয়রের অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বলার সিদ্ধান্ত হয়।
মেয়রের ছুটি মঞ্জুরসংক্রান্ত চিঠি ফ্যাক্স ও ই-মেইলে টাঙ্গাইল পৌরসভায় পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার উপসচিব খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অসুস্থতার কারণে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর ৪৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে চিঠিটি টাঙ্গাইল পৌরসভায় পৌঁছায়।
সহিদুর রহমান পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। স্থানীয় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় তাঁর নাম আসার পর থেকে গত বছরের ২০ নভেম্বর তিন মাসের ছুটির একটি আবেদন পৌর সচিবের কাছে দেন। এরপর তিনি আত্মগোপন করেন। পুলিশের কাছে তিনি পলাতক। পৌর কর্তৃপক্ষ অবশ্য ২৩ নভেম্বর থেকে ছুটি কার্যকর ধরছে। সেই হিসাবে ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়রের কাজে যোগ দেওয়ার কথা। মেয়র ছুটিতে যাওয়ায় কাউন্সিলর মানবেন্দ্র পালকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর ক্ষমতা সীমিত। কেবল পৌরসভার কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও দৈনন্দিন খরচের চেকে স্বাক্ষর করতে পারেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র। কিন্তু কোনো উন্নয়নমূলক কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান ও যে কাজগুলো চলছে, সেগুলোর অর্থ ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা ভারপ্রাপ্ত মেয়রের নেই।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন