বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডাকের এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। শেষ হয় ২০১৭ সালের জুনে।

প্রকল্পের অধীনে শেষ দিকে ১০ জন নারী চালককে অনেকটা ডেকে এনে কাজ দেয় ডাক বিভাগ। তখন তাঁদের চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

ডাক বিভাগ বলছে, গত পাঁচ বছরে তাদের কোনো চালক নিয়োগ হয়নি। এ কারণে ওই নারী চালকদের চাকরি স্থায়ী করা যায়নি।

ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক (মেইলস) এস এম হারুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ডাকে দুই বছর ধরে চালক নিয়োগের প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। যখন চালক নিয়োগ হবে, তখন ওই তিন নারী অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবেন।

মূলত, চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় ১০ নারী চালকের মধ্যে ৭ জন হতাশ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছেন বলে জানা যায়। আর কবে নিয়োগ পাবেন, স্থায়ী হবেন—সেই আশায় দিন গুনছেন বাকি ৩ নারী চালক।

এখনো কাজে থাকা ৩ নারী চালকের একজন হেলেনা আক্তার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নেওয়ার সময় অনেক কিছুই বলেছিল। কিন্তু তার কিছুই করা হয়নি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল, আবেদনও করেছি। কিন্তু নেবে কি না, জানি না। যখন কাজে যোগ দিই, তখন শুনেছিলাম, আমাদের রাজস্ব খাতে দিয়ে দেবে। কিন্তু কোনো খবর নেই।’

স্নাতকোত্তর করা হেলেনা পারিবারিক কারণে সংসারের হাল ধরতে গাড়ি চালনা শেখেন। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করার পর ডাক বিভাগে মেইল গাড়ি চালানোর জন্য ডাক পান তিনি। হেলেনা জানান, সন্তান জন্মের সময় বেতন ছাড়া তিন মাস ছুটি কাটান তিনি। তার আগে সন্তান পেটে নিয়েই গাড়ি চালান। অন্য কোনো ছুটি চাইলে বেতন ছাড়া তা কাটাতে হয়। এখানে অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধাও নেই।

জানা গেছে, হেলেনাসহ ৩ নারী চালক এখন মাসে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা করে বেতন পান। বেতন পেতে মাসের ৮ থেকে ১০ তারিখ লেগে যায়। এর বাইরে আর কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই।

সরকারি চাকরি হবে—এ আশায় একটি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ স্কুলের চাকরি ছেড়ে ডাকের মেইল গাড়ির চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল, তার কিছুই পাইনি। যে বেতন দেয়, তাতে পোষায় না। মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। এক দিন ছুটি কাটালেও বেতন থেকে তা কাটা হয়।’

জান্নাতুল আরও বলেন, ‘যখন যোগ দিই, তখন বয়স ছিল স্থায়ী হওয়ার। এখন সেই বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। স্থায়ী করবে কি না, জানি না। খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। কিসের আশায় মানুষ বসে থাকবে? তাই সুযোগ পেয়ে যে যার মতো অন্য জায়গায় চলে গেছে।’

এই নারী চালকেরা জানান, তাঁরা তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগপ্রক্রিয়া হলে তাতে তাঁদের আবেদন করতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নারী চালকেরা একটি প্রকল্পের আওতায় ছিলেন। রাজস্ব বাজেটে পরে আর নিয়োগ হয়নি। করোনার কারণে নিয়োগ বন্ধ ছিল। ২০২২ সাল থেকে নিয়োগ শুরু হবে। তখন তাঁরা রাজস্ব বাজেটে এলে সব সুবিধা পাবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন