বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের হরতালের দিনেও গতকাল সোমবার ঢাকা, পাবনা ও কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার সাভারে বাস ও হিউম্যান হলারের সংঘর্ষে দুজন, পাবনার সাঁথিয়ায় পিকআপ ও নছিমনের সংঘর্ষে তিনজন এবং কুষ্টিয়ার কবুরহাট এলাকায় ট্রাকের চাপার একজনসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল সকালে ঢাকার আশুলিয়ার মরাগাঙ এলাকায় আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে হিউম্যান হলার ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহতসহ আহত হন ১৫ জন।

আশুলিয়া থানার পুলিশ জানায়, আবদুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী হিউম্যান হলার সকাল আটটার দিকে মরাগাঙ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের কারণে বাসটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। আর হিউম্যান হলারটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার ওপরই পড়ে থাকে। এ সময় হিউম্যান হলারে থাকা সোহেল হাওলাদার নামে (৩৫) এক যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা যান। তাঁর বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে। এ ছাড়া ঢাকার একটি হাসপাতালে আহতদের মধ্যে আরও একজন মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশ ওই নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানাতে পারেনি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে।

একই দিন ভোরে সাঁথিয়ার শোলাবাড়িয়া এলাকায় পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে পিকআপ ভ্যান ও ইঞ্জিনচালিত নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন সাঁথিয়া উপজেলার মাধপুর বোয়াইলমারী গ্রামের রমজান আলী (৫০), হেলাল উদ্দিন (৪০) ও মোফাজ্জল হোসেন (৪৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন আট-নয়জন যাত্রী নিয়ে মাধপুর থেকে সাঁথিয়ার দিকে যাওয়ার পথে সামনে থাকা অপর একটি নছিমনকে অতিক্রম করছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে নছিমনটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নছিমনটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। স্থানীয় লোকজন হতাহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মাধপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজ উদ্দিন জানান, ‘দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ভ্যান ও নছিমনটি উদ্ধার করে মাথপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। আর মৃতদেহগুলো পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

গতকাল সকালে কুষ্টিয়া-আলমডাঙ্গা সড়কের কবুরহাট এলাকায় রশিদ এগ্রো মিলের একটি ট্রাকের চাপায় নিহত হয়েছেন রনি আহমেদ (১৭) নামের এক শ্রমিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রনি রশিদ এগ্রো মিলে রাজমিস্ত্রির কাজ করার সময় চালবোঝাই মিলের নিজস্ব ট্রাক বের হওয়ার সময় তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল খালেক জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন