চট্টগ্রামে হরতাল-অবরোধে কমে গেছে জমি কেনাবেচা। গত ডিসেম্বর মাসের তুলনায় জানুয়ারিতে তা নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে এ খাত থেকে সরকার রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে।
রেজিস্ট্রি কার্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে ১৪ হাজার ৪২টি। জানুয়ারি মাসে তা কমে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৩৫৩টিতে। দলিল ও যাবতীয় রেকর্ডের নকল ফি এবং দলিল রেজিস্ট্রি ফিসহ বিভিন্ন খাতে ডিসেম্বর মাসে সরকারি কোষাগারে জমা হয় ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার ৪৫০ টাকা। জানুয়ারি মাসে তা দাঁড়ায় ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৬ হাজার ৭৫২ টাকায়।
কাজ কমে যাওয়ায় অলস সময় পার করছেন ভূমি রেজিস্ট্রি (নিবন্ধন) কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কেনাবেচা কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দলিললেখকেরা। এ ছাড়া প্রয়োজনের সময় জমি বিক্রি করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অনেকে।
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার জেলা রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা নেই। কাজের চাপ না থাকায় অলস সময় পার করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শুধু জেলা রেজিস্ট্রি কার্যালয় নয়, ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়েরও একই চিত্র বলে জানা গেছে।
জমি বিক্রির সময় বিক্রেতাদের রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে হাজির হতে হয়। কেউ উপযুক্ত কারণে হাজির হতে না পারলে রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে ‘কমিশন’ (লোক) পাঠানো হয়। রেজিস্ট্রি কার্যালয় সূত্র জানায়, হরতাল-অবরোধে বালাম বই নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বিক্রেতার বাড়িতে ‘কমিশন’ পাঠানো হচ্ছে না।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার মুশতাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা নিবন্ধন কার্যালয়ে আসছেন না। ফলে কেনাবেচা কমে গেছে। এতে সরকার রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কারও বাসায় কমিশন পাঠানো হচ্ছে না।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, নগরের চন্দনপুরা এলাকার অসুস্থ এক ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য জায়গা বিক্রি করতে ক্রেতার সঙ্গে মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু বিক্রেতা রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে আসতে না পারায় তাঁর বাসায় ‘কমিশন’ পাঠানোর জন্য গত জানুয়ারিতে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়। কিন্তু হরতাল-অবরোধের কারণে রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে ‘কমিশন’ পাঠানো হচ্ছে না। রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, হরতাল-অবরোধে বালাম বই নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দেড় মাস ধরে রেজিস্ট্রি করা যাচ্ছে না।
নগরের চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, একখণ্ড জমি বিক্রির জন্য দলিল তৈরি করে রাখা হলেও হরতাল-অবরোধের কারণে রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, জমির অংশীদারেরা চাকরির কারণে কেউ ঢাকায়, কেউ কুমিল্লায়, কেউ রংপুরে থাকেন। হরতাল-অবরোধের কারণে তাঁরা আসতে পারছেন না। এদিকে জমির ক্রেতা প্রবাসী। তিনি দলিল রেজিস্ট্রি করে বিদেশে চলে যেতে চাইলেও পারছেন না।
জমি কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, দলিললেখক, সার্ভেয়ার ও কেনাবেচার মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
নগরের জিইসি মোড় এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার জমি কেনাবেচার মধ্যস্থতা করে সংসার চালান। তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে জমি কেনাবেচা নেই বললেই চলে। এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন