টানা অবরোধ ও হরতালে অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছে পঞ্চগড় শহরের বাজারব্যবস্থা। বাজারে ক্রেতা কম, কিন্তু পণ্যের দাম বেশি। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
গত শনিবার ও গতকাল রোববার রাজনগর এলাকায় পঞ্চগড় বাজার ঘুরে জানা গেছে, দেড় মাস ধরে ব্যবসায় মন্দা চলছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে।
বাটা সু এজেন্সির ডিলার ফজলার রহমান জানান, ‘বেচা-বিক্রি নেই। খুব খারাপ সময় চলছে।’
পুরোনো মুদি ব্যবসায়ী অলি আহম্মদ জানান, আগে তাঁর দৈনিক ১০-১২ হাজার টাকার মতো বেচাকেনা হতো। এখন সেখানে তিন-চার হাজার টাকার হচ্ছে।
সবজি ব্যবসায়ী মাহবুব আলম জানান, শাকসবজির দাম অনেকটা কম। অবরোধ-হরতালের আগে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা আয় করতেন। এখন সেটি দু-তিন হাজার টাকায় এসে ঠেকেছে।
চাল ব্যবসায়ী রতন বলেন, ‘আর কহেন না, পকেটখরচই ওঠে না। দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল তো আছে।’
মাংস বিক্রেতা হাফিজুল ইসলাম জানান, বাজারে প্রতিদিন যেখানে ৬০-৭০ টি গরু জবাই হতো, এখন তা ১৫-২০ টাতে নেমে এসেছে। মাংসের ক্রেতা কমে গেছে। গরুর দাম বেড়েছে, লাভও কমে গেছে।
কামাল অ্যালুমিনিয়াম স্টোরের কামাল হোসেন বলেন, আগে আট-দশ হাজার টাকার বিক্রি হতো, এখন সেটি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
আধুনিকা টেইলার্সের আবদুস ছাত্তার বলেন, ‘এখন মানুষ পোশাক বানানো ছাইড়া দিছে। আগে প্রতিদিন আট থেকে দশটার মতো অর্ডার পাওয়া যাইত। এখন দিনে দু-একটির বেশি অর্ডার পাওয়া যায় না।’
বাজারের স্টেশনারি, থানকাপড়, কসমেটিকস, রড-সিমেন্ট, ইলেকট্রনিকস, জুতা, ফল ব্যবসায়ীসহ পাইকারি ও ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে একই ধারণা পাওয়া গেছে।
পঞ্চগড় শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি ইকবাল কায়সার বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থে রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করা উচিত। না হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন