বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধে পঞ্চগড়ের পরিবহনশ্রমিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ৪৬ দিন ধরে চলা এই সহিংস কর্মসূচির কারণে লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এ কারণে গাড়ি চলাচল করছে কম। এতে পরিবহনশ্রমিকদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকে পেশা বদল করে রিকশা ও ভ্যান চালাচ্ছেন। আবার অনেকে হোটেলে কাজ নিয়েছেন।
শ্রমিক সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, অবরোধ-হরতালে জেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবহনশ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এ কারণে হাতে টাকা না থাকায় তাঁরা সংসারের খরচ মেটাতে পারছেন না।
সম্প্রতি পঞ্চগড়ের ট্রাক টার্মিনাল, বাস টার্মিনালসহ কয়েকটি শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হয়। শ্রমিকেরা জানান, হরতাল-অবরোধের আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো। বাড়ির খরচ, ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, ঋণের কিস্তি শোধ করার পর প্রতিদিন কিছু না কিছু জমিয়ে রাখতেন। হরতাল-অবরোধের কবলে পড়ে জমানো টাকা শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে তাঁদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। অনেকের ছেলেমেয়েরা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। অনেকে লজ্জায় বাড়ি ফিরছেন গভীর রাতে। অনেকে স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন।
বাসচালক জাফর হাসান বলেন, ‘স্ত্রী-সন্তানদের বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’ ট্রাক টার্মিনালের শ্রমিক আইনুল হক বলেন, ‘পকেটে এখন দু-চার টাকাও নেই। বাড়ির জন্য চাল কিনতে পারিনি। ধার করে আর চলা যাচ্ছে না।’
ট্রাকচালক বাবুল বলেন, ‘টুকটাক গাড়িঘোড়া চললেও জীবনের অনেক ঝুঁকি। তাই গাড়ি চালাচ্ছি না। তা ছাড়া ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় ভাড়াও পাওয়া যায় না। অবস্থা খুব খারাপ।’ পাথর সরবরাহকারী সবুজ ইসলাম (২৭) জানান, আগে ঢাকার ভাড়া ছিল ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা, এখন হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। চট্টগ্রামের ভাড়ান ছিল ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা, এখন হয়েছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। তাই ব্যবসায়ীরা মালামাল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছেন।
পঞ্চগড় জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মজিদ জানান, শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। কত দিন আর না খেয়ে চলবেন তাঁরা। তিনি এ অবস্থার দ্রুত সমাধানের পথ বের করার আহ্বান জানান।
পঞ্চগড় জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জসিদুল ইসলাম জানান, হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এই দুরবস্থা থেকে অচিরেই মুক্তি দরকার।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন