অবরোধ ও হরতালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রুটিন অনুযায়ী পাঠদান (ক্লাস) হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কম। এতে নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি বিভাগে মোট শিক্ষার্থী আছেন ২ হাজার ৮৬০ জন। এঁদের মধ্যে হলে থাকেন ১ হাজার। বাকিরা শহরে বাসা কিংবা মেসে থেকে পড়ালেখা করেন। এখানে শিক্ষক আছেন ১০০ জনের মতো, যাঁদের ২৫ জন ক্যাম্পাসের ডরমিটরিতে থাকেন। ২০ জন শিক্ষক দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অন্যরা শহরে থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন।
হরতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থী আনা-নেওয়ার পাঁচটি বাস গত ১৩ জানুয়ারি থেকে পুলিশ পাহারায় শহরের পালবাড়ি মোড় থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করছে। দিনে দুবার শহর থেকে ক্যাম্পাসে বাস চলাচল করলেও শিক্ষার্থী অনেক কম। এদিকে পাঠদানও ঠিকমতো হচ্ছে না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, অবরোধে দুবেলা বাস চলাচল করলেও ক্লাস ঠিকমতো হচ্ছে না। দিনে চার-পাঁচটি ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও হয় দু-একটি। কোনো কোনো দিন হয়ও না।
অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী তামিমা তাসনিম বলেন, ‘সিনিয়র শিক্ষক নেই বলে ক্লাস অনেক কম হয়। হরতাল-অবরোধের কারণে তা আরও কমে গেছে। আগে দিনে অন্তত পাঁচবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস শহর থেকে ক্যাম্পাসে চলাচল করত। যখন ক্লাস থাকত, তখন ক্যাম্পাসে যেতাম। যখন থাকত না, ফিরে আসতাম। কিন্তু এখন আর সে উপায়ও নাই। সকালে গিয়ে বিকেলে ফিরতে হয়। এভাবে দিনের অনেকটা সময় অযথা নষ্ট হচ্ছে।’
শিল্প ও উৎপাদন-প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শামীম খান জানান, এর আগে তাঁদের বিভাগে তিন মাসের সেশনজট ছিল। হরতাল-অবরোধে তা আরও তিন মাসে গড়িয়েছে। হরতালে ক্লাস বন্ধ থাকে। তাই অবরোধের মধ্যে শিক্ষকেরা টানা ক্লাস নেন। এতে তাঁদের ওপর চাপ পড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাসরত শিক্ষকেরাও ক্যাম্পাসে প্রতিদিন যেতে পারছেন না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেমিকৌশল বিভাগের একজন শিক্ষক জানান, হরতালে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারেন না। অবরোধে তাই একটা ক্লাসের জায়গায় একসঙ্গে দুটি ক্লাস নিতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুস সাত্তার বলেন, অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যবস্থায় কিছুটা গরমিল হচ্ছে, এটা সত্যি। সেশনজট যাতে না হয়, সে জন্য গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে একটি জরুরি সভা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে ক্লাস ও দাপ্তরিক কাজ চলবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন