বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হরিপ্রভা জাপানিদের মনমানসিকতা, জাপানি সংস্কৃতির মৌলিক বিষয়গুলো খুব কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। সহজ-সুন্দর ভাষায় তা প্রকাশ করেছিলেন।

ইতিহাসের পাতা থেকে অধুনা বিস্মৃত হরিপ্রভা তাকেদাকে প্রামাণ্যচিত্রে তুলে এনেছেন ভ্রমণবিষয়ক আরেক লেখক ও নির্মাতা এলিজা বিনতে এলাহী। হরিপ্রভা তাকেদা: এন আনসং ট্রাভেলার অব বেঙ্গল নামের এই প্রামাণ্যচিত্রের প্রথম প্রদর্শনী হলো গতকাল শনিবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে। এলিজা জানান, ২৬ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রে কাহিনির প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে তিনি নিজেই হরিপ্রভার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাকেদার ভূমিকায় ছিলেন শফিকুল ইসলাম।

বলা যায়, হরিপ্রভা তাকেদাকে নতুন করে আবিষ্কার করেছিলেন ঐতিহাসিক মুনতাসীর মামুন। তাঁর ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী (দ্বিতীয় খণ্ড) বইয়ে হরিপ্রভা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটিতেও তিনি হরিপ্রভা সম্পর্কে বলেছেন। এ ছাড়া সাংবাদিক মনজুরুল হক, গবেষক কাজুহিরো ওয়াতানাবে ও সাংবাদিক তামামি কাওয়াকামি তথ্য-উপাত্ত দিয়েছেন।

দৃষ্টিভঙ্গি, মানসিকতা, পর্যবেক্ষণক্ষমতা—এসব গুণের জন্য মুনতাসীর মামুন হরিপ্রভাকে ঢাকার প্রথম আধুনিক নারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হরিপ্রভার বাবা শশীভূষণ মল্লিক ও মা নগেন্দ্র বালা। হরিপ্রভা তাঁদের প্রথম সন্তান, যাঁর জন্ম ১৮৯০ সালে।

উয়েমেন তাকেদা ছিলেন রসায়নবিদ। ভাগ্যান্বেষণে প্রথম কলকাতায় আসেন। পরে তিনি ১৯০৩ সালের দিকে ঢাকায় এসে ‘ইন্দোজাপানিজ সোপ ফ্যাক্টরি’ নামে একটি সাবানের কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তাকেদা ও হরিপ্রভার বিয়ে হয় ১৯০৬ সালে। ১৯১২ সালের ৩ নভেম্বর তাকেদা ঢাকার কারখানা গুটিয়ে সস্ত্রীক জাপানে চলে যান। হরিপ্রভা তাকেদারা তখন নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টিমারে কলকাতায় যান এবং সেখান থেকে জাহাজে রেঙ্গুন, পেনাং, সিঙ্গাপুর, হংকং, সাংহাই হয়ে ১৯১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর জাপানের পোর্ট মজিতে গিয়ে পৌঁছান। বইয়ে তাকেদা কলকাতা থেকে যাত্রাপথে পড়া প্রতিটি দেশের চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন। জাপানিরা তাঁকে দেখে খুবই কৌতূহলী হয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘এখানে অনেক জাপানি আমাকে ব্যগ্র হয়ে দেখিতে লাগিল।’ তাদেকা দম্পতি জাপানে ছিলেন প্রায় চার মাস।

হরিপ্রভা দ্বিতীয়বার জাপানে গিয়েছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে। বিশ্বযুদ্ধের পর তাঁরা জাপান থেকে ফেরেন। ভারতবর্ষ তখন স্বাধীন, হরিপ্রভার পরিবার ঢাকা থেকে ভারতের জলপাইগুড়িতে চলে গেছে। ছোট বোন অশ্রুপ্রভার জলপাইগুড়ির বাড়িতেই উঠেছিলেন হরিপ্রভা তাকেদারা। উয়েমেন তাকেদা সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭২ সালে কলকাতায় হরিপ্রভা তাকেদা পরলোকগমন করেন।

প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী শেষে আলোচনা করেন ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি, মুনতাসীর মামুন, মফিদুল হক, শামিম আমিনুর রহমান, ফুয়াদ চৌধুরী। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন সাংবাদিক মনজুরুল হক।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন