default-image

করোনার নমুনা সংগ্রহ করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে বিফল হয়েছেন জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। জামিন চেয়ে তাঁর করা আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি বলে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন সাবরিনা, যা আজ শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ।

বাসা থেকে টাকার বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ করা এবং পরীক্ষা ছাড়াই নমুনার ফল দেওয়ার অভিযোগে তেজগাঁও থানার পুলিশ গত ২৩ জুন জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।

পরে সাইফুদ্দিন খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট দেওয়ায় প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় সাবরিনা চৌধুরীর জামিন হয়নি। জামিন আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

বাসা থেকে টাকার বিনিময়ে নমুনা সংগ্রহ করা এবং পরীক্ষা ছাড়াই নমুনার ফল দেওয়ার অভিযোগে তেজগাঁও থানার পুলিশ গত ২৩ জুন জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১২ জুলাই সাবরিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৫ আগস্ট ভুয়া করোনার রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিএমপি)। মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে।

গত ১৩ এপ্রিল জেকেজি হেলথ কেয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে করোনা শনাক্তের নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ স্থাপনের কাজ শুরু করে। শুরুতে তারা ঢাকায় ৪৬টি এবং ঢাকার বাইরে ৩২০টি বুথ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা বলে। কিন্তু ঢাকায় পাঁচটি এবং নারায়ণগঞ্জে দুটি স্থানে নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করে তারা।

স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নমুনা সংগ্রহ করে সরকার-নির্ধারিত টেস্ট সেন্টারে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়। এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের সোয়াব স্টিক, ভিটিএম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা হয়।

ঘটনাটি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকার পাঁচটি বুথ থেকে প্রতিদিন ৪০টি করে ২০০টি নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু জেকেজি এর চেয়ে বেশি নমুনা পাঠাতে শুরু করে। এমনকি এক দিনে সর্বোচ্চ ৭৯১টি নমুনাও তারা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে এই অতিরিক্ত নমুনা নিতে বাধ্য হয় তারা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0