সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে এলেও বাঁধের কাজ এখনো অর্ধেকও হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে বিলম্ব হওয়ায় সব হাওরেই কাজ শুরু হয়েছে দেরিতে। এতে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে না বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৪২টি হাওরের ফসল রক্ষায় পিআইসি ও ঠিকাদার বাঁধের কাজ করছেন। এতে ব্যয় হবে ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। পিআইসির মাধ্যমে কাজ হবে ১৫ কোটি এবং ঠিকাদারেরা করছেন ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার কাজ। এ জন্য ২৪৩টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের ফসল রক্ষায় সবচেয়ে বড় বাঁধ হয় হাওরের পূর্বপারের গজারিয়া এলাকায়। গত বছর চারটি পিআইসি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল। ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
গত বৃহস্পতিবার ওই বাঁধে গিয়ে দেখা গেছে, কাজ অর্ধেকও হয়নি। কোনো শ্রমিক নেই সেখানে। স্থানীয়ভাবে বাঁধের কাজের সঙ্গে যুক্ত ওয়াহাব আলী নামের এক ব্যক্তি জানান, ছয় দিন ধরে বাঁধে বালু ও মাটি ফেলছেন তাঁরা। অন্য বছর এই সময় কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এখানে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণের কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
রাবার ড্যামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাহজালাল কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নৌকা ও শ্রমিকের অভাব নেই। পানি এলেও সমস্যা হবে না। দ্রুত কাজ শেষ করতে পারব।’
খরচার হাওরের পশ্চিমপারের বেকাবাঁধ, রাধানগর ও বাহাদুরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এই তিনটি স্থানে বাঁধের কাজ চলছে ধীরগতিতে। গত বুধবার বাঁধের কাজ পরিদর্শন করে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজের ধীরগতির বিষয়টি সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছেন।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহম্মদ বলেন, ‘সব বাঁধেই ৫০ শতাংশের বেশি কাজ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ না হলেও দ্রুত কাজ শেষ করে ফেলা হবে।’
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় হাওর বাঁচাও-কৃষক বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ইউসুফ আল আজাদ জানান, উপজেলার বৃহৎ হালির হাওরে বদরপুর, আলীপুর, মামদপুর, হেরাকান্দি বাঁধের কাজ চলছে খুবই ধীরগতিতে। কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে উপজেলা সদরে গত সপ্তাহে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ জানান, তাঁর উপজেলায় এ পর্যন্ত বাঁধের কাজ ৩০ শতাংশের বেশি হয়নি।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য জেলা কমিটির পক্ষ থেকে পাউবোকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে কাজের বিষয়ে খোঁজ রাখার জন্য।
নির্বাহী প্রকৌশলী সাঈদ আহম্মদ বলেন, ‘সব হাওরেই বাঁধের কাজ জোরেশোরে চলছে। পিআইসিরা টাকা পেয়ে কাজ করে। আমরা প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছি। এখন দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিতে হবে। সময়মতো টাকা না পেলে কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন