বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জুলিয়া ওয়াসিমান একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। থাকেন ঢাকায়। গত ৮ অক্টোবর তিনি টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে এসেছিলেন। এ সময় সঙ্গে তাঁর পোষা বিড়াল লিও ছিল। হাওর ঘুরে তাহিরপুর উপজেলা সদরে আসার পর বিড়ালটি হারিয়ে ফেলেন তিনি। এরপর দুদিন তাহিরপুরে অবস্থান করে বিড়ালের খোঁজ করেন। কিন্তু না পেয়ে ফিরে যান ঢাকায়। মাঝখানে তিনি আরও পাঁচ–ছয়বার তাহিরপুরে এসেছেন লিওর খুঁজে। নানাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তিনি কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। লিওর সন্ধান পেতে সহযোগিতা করতে ১৫ দিন আগে ‘তাহিরপুর হেল্পলাইন’ নামের একটি সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোহাম্মদ আবুল ফয়সল জানান, ‘জুলিয়ার বিড়ালটি আমাদের দেশি প্রজাতির। তাঁরা স্থানীয়ভাবে বিড়ালের সন্ধানে নানাভাবে চেষ্টা চালান। লোকজনকে বিড়ালের ছবি দেখান। গত রোববার মাইকিং করিয়েছি। একপর্যায়ে এলাকার কিশোর-যুবকেরাও বিড়ালটি খোঁজাখুঁজি করেন। অবশেষে গতকাল রাত ১০টায় তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের পাশের মধ্য তাহিরপুর রায়পাড়া এলাকায় বিড়ালটিকে দেখতে পেয়ে সেটিকে আটক করেন কয়েকজন যুবক। এ সময় উদ্ধারে থাকা রতন রায় (২৫) নামের এক তরুণকে বিড়ালটি কামড় দেয়।’

আবুল ফয়সল জানান, রাতেই বিড়ালের ছবি পাঠানো হয় জুলিয়ার কাছে। তিনি নিশ্চিত হয়ে ঢাকা থেকে তারিহপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। আজ সকালে বিড়ালটি থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের মাধ্যমে সেটি জুলিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তিনি সেটি নিয়ে ঢাকায় ফিরে যান।

তাহিরপুর সদরের বাসিন্দা পরিবেশকর্মী অনুপম রায় বলেন, ‘আমরা অনেক বিপন্ন প্রাণীকে মেরে ফেলছি। কিন্তু একটি বিড়ালের প্রতি জার্মান নারীর যে ভালোবাসা দেখলাম, তাতে আমরা অভিভূত। এটি থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।’ একই এলাকার বাসিন্দা রতন রায় বলেন, বিড়ালটি জুলিয়ার হাতে তুলে দিতে পেতে তাঁরা খুশি। বিড়ালটি তাঁকে কামড় দেওয়ার পর তিনি টিকা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ তরফদার বলেন, ‘বিষয়টি কেউ আগে আমাদের জানায়নি। আজ সকালে এলাকার কয়েকজন যুবক সেটি থানায় নিয়ে আসেন। পরে ওই জার্মান নারীও আসেন। বিড়ালটি জুলিয়ার নিশ্চিত হয়ে সেটি তাঁর কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন