বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নতুন আহ্বায়ক কমিটি

গতকাল মঙ্গলবার আইনজীবী মো. অজি উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ১২ এপ্রিল সমিতির কার্যকরী কমিটির মেয়াদের শেষ এক সভায় তাঁকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি নির্বাচন উপকমিটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৫ এপ্রিল আইনজীবী এ ওয়াই মসিউজ্জামানের (পদত্যাগ করা আহ্বায়ক) কাছে চাবি হস্তান্তরের জন্য চিঠি দিই। পরে তাঁকে ই-মেইল পাঠানো হয়। তবে তিনি চাবি হস্তান্তর না করায় ১৭ এপ্রিল তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলি। সার্বিক বিবেচনায় ২৭ এপ্রিল বেলা ৩টায় নির্বাচন–পরবর্তী বাকি কাজ শেষ করা হবে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন অজি উল্লাহ।

আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সমিতির সম্পাদক (নীল প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী) হিসেবে মো. রুহুল কুদ্দুস দাবি করেন, ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কাজেই ওই সভায় গৃহীত যেকোনো সিদ্ধান্ত অবৈধ।

হইচই ও হট্টগোলের পর ভোট গণনা শুরু

প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন আইনজীবী বলেন, আগের ঘোষণা অনুসারে বেলা সোয়া তিনটার দিকে মো. অজি উল্লাহর নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত নতুন উপকমিটি সমিতির তিনতলায় অবস্থিত সম্মেলনকক্ষে ঢুকতে গেলে হইচই ও হট্টগোল শুরু হয়। আগে থেকে সমিতির সম্মেলনকক্ষের অন্য পাশে অবস্থন নিয়ে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা এই উপ কমিটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, মো. অজি উল্লাহর নেতৃত্বে আইনজীবীরা ভোট গণনার জন্য সম্মেলনকক্ষে ঢুকতে গেলে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা এতে আপত্তি জানান ও বাধা হয়ে দাঁড়ান। সম্মেলনকক্ষে নির্বাচনের ব্যালটসহ অন্যান্য জিনিস রয়েছে। ধাক্কাধাক্কি ও হাহাহাতির মধ্যে তালা ভেঙে সম্মেলনকক্ষে প্রবেশ করেন তাঁরা। পরে বিএনপি সমর্থকেরা কক্ষের কাচ ভাংচুর করেন। চারটার দিকে ভোট গণনা শুরু করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি। এরপর সমিতি ভবনে পুলিশ মোতায়ন করা হয়।

সংকটের শুরু যেখানে

এর আগে গত ১৫ ও ১৬ মার্চ সমিতির নির্বাচনে (২০২২-২৩) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোট গণনা শুরু হয়, চলে রাত পর্যন্ত। সভাপতি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের প্রার্থী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির ভোটে এগিয়ে ছিলেন। সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী মো. রুহুল কুদ্দুস (বিদায়ী সম্পাদক) তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুন নূরের চেয়ে কিছু ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ওই রাতে একপর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সাদা প্যানেল থেকে সম্পাদক প্রার্থী আব্দুন নূর পুনরায় ভোট গণনা চেয়ে নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত আহ্বায়ক কমিটির কাছে আবেদন করেন। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে হইচই-হট্টগোল হয়।

একপর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মসিউজ্জামান সমিতির কমিটির কাছে পদত্যাগপত্র দেন। এরপর ভোটের ফলাফল ঘোষণা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে গত ৩০ মার্চ বিকেলে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি জরুরি সভায় বসে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে কার্যকরী কমিটির সব সদস্য একমত পোষণ করেন যে এ পরিস্থিতিতে সমিতির অভিভাবক হিসেবে সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকেরা এগিয়ে আসবেন। কার্যকরী কমিটি প্রত্যাশা করে, সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকেরা পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে একত্রে বসে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবেন। এরপর সমিতির সাবেক সভাপতি ও সম্পাদকেরা বৈঠকে বসেন। তবে জটিলতা নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

তবে ১৩ এপ্রিল সমিতি ভবনে অবস্থিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের (আইনজীবীদের গণনা করা ফলাফল) নামের নতুন নেমপ্লেট দেখা যায়। ফলাফল ঘোষণার আগে নেমপ্লেট বসানো নিয়ে দুপুরে সমিতির সভাপতি কক্ষের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি–সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে হইচই ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। পরে দেখা যায়, সমিতি ভবনে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের পদ উল্লিখিত প্লেটে থাকলেও সেখানে নাম উল্লেখ নেই।

উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে (২০২১-২২) ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ ৮টি পদে সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা এবং সম্পাদকসহ ৬টি পদে নীল প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন