default-image

বান্দরবানের থানচি থানা থেকে উপজেলায় উন্নীত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। সেই সময় ১১ শয্যার হাসপাতাল নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়েছিল। কিন্তু সেই হাসপাতালে খাবার সরবরাহের কোনো অনুমোদন ছিল না এত দিন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হওয়ার ৩৪ বছর পর রোগীদের খাবার সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া গেছে। দরপত্রপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রোগীদের খাবার সরবরাহ করতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। আজ রোববার এ কথা জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন অংসুইপ্রু মারমা।
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মংটিংঞো মারমা বলেছেন, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও খাবার সরবরাহের কোনো অনুমোদন না থাকায় হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে (ইনডোর) রোগী ভর্তি করা যায়নি। এ জন্য তিন দশকেরও অধিক সময়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু বহির্বিভাগে রোগীদের সেবা ও ওষুধপত্র দেওয়া হতো। তিনি বলেন, গত আগস্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়ে পথ্যবিহীন (খাবার-দাবার ছাড়া) অন্তর্বিভাগ চালু করা হয়েছে। এখনো পানির সমস্যা থাকা সত্ত্বেও রোগী ভর্তি করা হচ্ছে।
মংটিংঞো মারমা বলেন, ‘আজও ১০ রোগী ভর্তি রোগী রয়েছে। খাবার সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হলে রোগী বিশেষ করে দরিদ্র রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে।’
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, ১৯৮৩ সালে থানচি উপজেলা হওয়ার সময় বাঁশের বেড়ার আধা পাকা একটি ভবনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স করা হয়েছিল। পরে সেটি ভেঙে যায়। প্রায় চার-পাঁচ বছর কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতাল ছিল না। ১৯৯৭ সালে ৩১ শয্যা হাসপাতালসহ পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হলেও শুধু বহির্বিভাগে রোগী দেখা হতো।
উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যহ্লাচিং মারমা বলেন, ‘হাসপাতালে অন্তর্বিভাগ চালু করতে ৩৪ বছরে অসংখ্যবার রোগীর খাবার সরবরাহের অনুমোদনের জন্য আবেদন-নিবেদন, চিঠিপত্র দেওয়া হয়েছে। এবারে বহু লালফিতা ডিঙিয়ে খাবার সরবরাহসহ অন্তর্বিভাগ চালুর জন্য অনুমোদন নেওয়া সম্ভব হয়েছে।’ উপজেলা চেয়ারম্যান বললেন, এখন থানচি উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাবে। হাসপাতাল চালানোর মতো চিকিৎসক, নার্সও রয়েছেন। গতকাল শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ ইনডোর চালু প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0