আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয়জনের জীবন দুর্বিষহ

বিজ্ঞাপন
default-image

ডান ঊরুতে বাঁ হাত চেপে ধরে ছাদের দিকে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন ষাটোর্ধ্ব ফারুক মিয়া। তাঁর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরছে। মঙ্গলবার দুপুরেও তাঁর ডান পা-টি যথাস্থানে ছিল। কিন্তু পায়ে দ্রুত পচন ধরার কারণে ওই দিন বিকেলে সেটি কেটে ফেলতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালে বাইরে বোমা বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিদের একজন হলেন এই ফারুক মিয়া। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই গ্রামে। ২৫ মার্চ অভিযান শুরুর পর কৌতূহলবশত সেখানে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় বোমা বিস্ফোরণে ডান পায়ে অনেক স্প্লিন্টারবিদ্ধ হন তিনি।
ওই দিন ফারুকসহ ৫০ জন আহত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। যাঁদের মধ্যে র্যাব-পুলিশের তিন কর্মকর্তাসহ সাতজন মারা যান। ৩৭ জন চিকিৎসা নিয়ে অনেকটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ফারুক মিয়াসহ ছয়জন এখনো হাসপাতালে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অবস্থা জানতে বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালে যান প্রথম আলোর এই প্রতিনিধি।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন শিরিন আহমদ (২৩)। তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১২ নম্বর শয্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ভাটিপাড়া গ্রামে। সিলেটের কদমতলীর একটি রেস্তোরাঁয় বাবুর্চির কাজ করতেন। অন্যদের মতো তিনিও আতিয়া মহলের অভিযান দেখতে গিয়ে ঘটনার শিকার হন। তাঁর স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। তাঁর স্ত্রী সুলতানা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর বাঁ পায়ে অনেক স্প্লিন্টার বিঁধেছে। ঠিকমতো চিকিৎসা না হওয়ায় ওই পা পচে এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্বামীর পা হারানোর আশঙ্কা করছেন তিনি।
সুলতানার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপপরিচালক দেবপদ রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনটি হওয়ার কথা নয়। বোমা হামলায় আহত সব রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপরও অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।’ চিকিৎসাধীন সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।
৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন সিলেটের ঝালোপাড়ার রংমিস্ত্রি জুয়েল আহমদ (৩৫) ও কদমতলীর নাজিম উদ্দিন (২১)। তাঁদের শরীরেও অনেক স্প্লিন্টার বিঁধেছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন মো. মাসুদ মিয়া (২৭)। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার তরঙ্গি গ্রামে। দক্ষিণ সুরমার আলমপুরের বৈশাখী বেকারির কর্মচারী তিনি। ওই দিন শিববাড়ি থেকে ফেরার পথে ঘটনার শিকার হন। তাঁর বাঁ হাত ও দুই পায়ের উপরিভাগে অনেক স্প্লিন্টার ঢুকেছে। একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন একই বেকারির কর্মচারী নুর আলম (২২)। তাঁর বুক থেকে নাভি পর্যন্ত ২০টি সেলাই দিতে হয়েছে। তাঁরা দুজনই এখন অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন