default-image

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় সংসদের হুইপ ও সরকারি দলের সাংসদ আতিউর রহমানকে তাঁর শেরপুর-১ নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশ পেয়ে তিনি এলাকা ত্যাগ করেছেন।
এদিকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদকে পুনর্বহালের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠিয়ে কমিশন বলেছে, নির্বাচন চলার সময় সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি করতে হলে কমিশনের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।
কমিশন এই দুটি পদক্ষেপ নিল চতুর্থ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের আগ মুহূর্তে। আজ ৭০৩টি ইউনিয়নে ভোটাভুটি হবে। সহিংসতার আশঙ্কায় এরই মধ্যে দুই দিনে ১৮টি ইউনিয়নের ভোটাভুটি স্থগিত করা হয়েছে।
কমিশন সচিবালয় থেকে জানা যায়, হুইপ আতিউর রহমান শেরপুর সদর উপজেলার কাজীরখামার ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী আওলাদুল ইসলামের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। এই ইউনিয়নে অন্য দুই প্রার্থী বিএনপির সানোয়ার হোসেন ও জাসদের খলিলুর রহমানও শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে আতিউর রহমান সদ্য শেষ হওয়া সংসদ অধিবেশনের শেষ তিন দিন অনুপস্থিত ছিলেন। তবে কমিশনের নোটিশ পাওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যার পর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন।
জানতে চাইলে আতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আগে থেকে নির্ধারিত অনুষ্ঠান থাকায় তিনি এলাকায় গিয়েছিলেন। এ সময় প্রার্থীদের কয়েকজন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তবে তিনি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেননি।
এদিকে এসপি হারুনকে পুনর্বহালের ঘটনায় গতকাল দুপুরে কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব ফরহাদ আহম্মদ খানের সই করা নির্বাচনী আইনকানুনের ব্যাখ্যাসংবলিত একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান বরাবর পাঠানো হয়। কমিশন সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি করতে হলে সরকারকে কিছু নিয়মকানুন মানতে হয়। সেটা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই চিঠি।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে গত ২০ এপ্রিল কমিশন গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশীদকে প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। মন্ত্রণালয় পরদিন এসপি হারুনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে। একই দিন দায়িত্বে অবহেলার কারণে কমিশনের নির্দেশে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল হক ও শ্রীপুরের ওসি আসাদুল হককেও প্রত্যাহার করা হয়।
এ ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় ৩ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হারুনের প্রত্যাহার আদেশ প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে অবশ্য বলা হয়েছে, গাজীপুর জেলায় যেসব ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে, সেগুলো সব শেষ হওয়ার পর এই আদেশ কার্যকর হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসে। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চারজন কমিশনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কমিশন সচিবালয় থেকে বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ৪ জুন শেষ ধাপের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গাজীপুরে ইউপি নির্বাচন শেষ হবে। আইন অনুযায়ী, অন্তত ১৯ জুনের আগ পর্যন্ত সেখানকার কাউকে বদলি করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, গাজীপুরের এসপির প্রত্যাহার আদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো ব্যাখ্যা চাওয়া হবে না। তবে চিঠি দিয়ে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে, কাজটি আইনসম্মত হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের সময় বদলির ক্ষেত্রে সরকারের সব মন্ত্রণালয়কে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন অমান্য করেছে। মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করবে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন সঠিক কাজ করেছে। কারণ, নির্বাচন চলার সময়ে সরকার বা তাদের কোনো মন্ত্রণালয় এ ধরনের কাজ করতে পারে না। কমিশন শুরুতে কিছুটা ইতস্তত ভাব দেখালেও সম্প্রতি বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। এটা নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক।
আজ ৭০৩ ইউপিতে নির্বাচন
আজ সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ৭০৩ ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সহিংসতার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। গতকাল শুক্রবার আরও দুটি ইউপির ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
কমিশন সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ধাপের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৩ হাজার ২০০। তাঁদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার পথে আছেন ৩৩ জন। তাঁরা সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত। ৮৬টিতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই।
প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীর বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিতের পর গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে বৃহস্পতিবার রাতে। এতে ২১ জন আহত হন। ঝিনাইদহের সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নে সংঘর্ষে সাতজন আহত হন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর একজন সমর্থককে বেদম পিটুনি দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন