রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে গতকাল মঙ্গলবার আগুনের ফুলকি দেখা যায়। এ সময় আগুন ও ভূমিকম্প মনে করে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে এক শিক্ষক ও ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীরা জানায়, বেলা সোয়া ১১টার দিকে দ্বিতীয় তলার সপ্তম শ্রেণির ‘খ’ শাখায় বিদ্যুতের সুইচ বোর্ডে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। এ সময় আগুন ও ভূমিকম্প মনে করে আতঙ্কিত হয়ে তারা দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে নবম শ্রেণির ছাত্রী নিপা, অষ্টম শ্রেণির রুমা, সুমি, ইয়াসমিন আক্তার, জিয়াসমিন, নুরজাহান, সপ্তম শ্রেণির জেসমিন, স্বর্ণা, রোজিনা ও আসমানি আহত হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষক ও যুগান্তর-এর গোয়ালন্দ প্রতিনিধি শামীম শেখও (৩৮) আহত হন।
আহত জিয়াসমিন বলে, ‘হঠাৎ তৃতীয় ও দ্বিতীয় তলার সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণির ক্লাসে আগুন লেগেছে ও ভূমিকম্প হচ্ছে বলে চিৎকার করতে করতে সবাই তাড়াহুড়ো করে নামতে থাকে। আমিও ভয়ে তাদের সঙ্গে নামতে গিয়ে কয়েকজনের নিচে পড়ে যাই।’
শামীম শেখ বলেন, ‘আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা “আগুন, আগুন” বলে চিৎকার দিয়ে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। তাদের কয়েকজনকে উদ্ধারের পর নিজেও পড়ে আহত হই।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর ঈদের সময় ঘাটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় বিদ্যালয়ে। তখন ইচ্ছেমতো বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় তারগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ফুলকি বের হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ সামিয়া বলেন, ১০ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাসির উল্যাহ বলেন, কোনো শব্দে বিদ্যালয়ের ভবন কেঁপে উঠলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন