বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এসআই আবদুর রব বলেন, চাঁদাবাজির মামলায় হেলেনাসহ অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র সোমবার আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগপত্রভুক্ত অন্য চার আসামি হলেন জয়যাত্রা টিভির মহাব্যবস্থাপক হাজেরা খাতুন, প্রধান বার্তা সম্পাদক কামরুজ্জামান, সমন্বয়ক সানাউল্ল্যাহ নূরী ও নিজস্ব প্রতিবেদক মাহফুজ শাহরিয়ার। এর আগে গত ২ আগস্ট জয়যাত্রা টিভির প্রতিনিধি দাবি করা আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজনকে আসামি করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলা করেন।

মামলায় আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর তাঁর মালিকানাধীন জয়যাত্রা টেলিভিশনে ভোলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার নামে তাঁর কাছ থেকে ৫৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। তিনি জয়যাত্রা টেলিভিশনে কয়েক মাস কাজ করেছেন। প্রতি মাসে তাঁর কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিত জয়যাত্রা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্মানহানি করার অভিযোগে গত ২৯ জুলাই হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গুলশানে তাঁর বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, ওয়াকিটকি ও বিদেশি চাকু উদ্ধার করা হয় বলে র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

পরে মিরপুরে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা টেলিভিশন ও জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন ভবনে অভিযান চালানো হয়। আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পল্লবী থানায় করা চাঁদাবাজির মামলাসহ পৃথক চারটি মামলায় জামিনে আছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর।

হেলেনাকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলেনা জাহাঙ্গীর স্বীকার করেন, তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মানহানি ও সুনাম নষ্ট করেছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই আইপি টিভি চ্যানেল পরিচালনা করছিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনি জেলায় জেলায় প্রতিনিধি নিয়োগের নামে চাঁদাবাজি করেছেন।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, জয়যাত্রা টেলিভিশন আইপিটিভির নামে স্যাটেলাইট টিভি পরিচালনা করে আসছিল। এটি ২০১৮ সাল থেকে হংকংয়ের একটি ডাউন লিংক চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার হয়ে আসছিল। ফ্রিকুয়েন্সির জন্য হংকংকে প্রতি মাসে প্রায় ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করা হতো। যদিও হংকং থেকে বরাদ্দ ফ্রিকুয়েন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে সম্প্রচারের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, সম্প্রচারের জন্য কেব্‌ল ব্যবসায়ীদের কাছে রিসিভার জয়যাত্রা টিভি বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। প্রতিনিধিরা কেব্‌ল ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সম্প্রচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে চাকরিচ্যুত করা হতো। এই টিভি বাংলাদেশের প্রায় ৫০টি জেলায় সম্প্রচারিত হতো।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন