বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামের একটি ‘ভুঁইফোড়’ সংগঠনের সভাপতি হওয়ার খবর প্রকাশিত হলে গত বছরের ২৫ জুলাই হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেয় আওয়ামী লীগ।

এরপর ৩০ জুলাই রাতে গুলশানের বাসায় চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাঁর বাসায় অবৈধভাবে রাখা ১৯ বোতল বিদেশি মদ, একটি ক্যাঙারুর চামড়া, একটি হরিণের চামড়া, দুটি মুঠোফোন, ১৯টি চেক বই, ৯২ হাজার ৮০০ টাকার সমমূল্যের যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, দুটি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার ৪৫৬টি সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। পরে গভীর রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানার মিরপুর ১১ নম্বরে জয়যাত্রা আইপি টিভি স্টেশনে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সম্প্রচার সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। র‌্যাব সিলগালা করে দেয় টিভি স্টেশনটি।

অভিযান শেষে র‌্যাব বলেছিল, হেলেনা জাহাঙ্গীর অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই টিভি চ্যানেলটি চালিয়ে আসছিলেন। এসব ঘটনায় মাদকদ্রব্য, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো একত্র করে গুলশান থানায় একটি; ফেসবুকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংস্থা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে গুলশান ও পল্লবী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব। এ ছাড়া অনুমোদন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া জয়যাত্রা টিভির সম্প্রচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইনে মামলা করা হয়।

মামলাগুলো তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তা সিআইডির সাইবার পুলিশ কেন্দ্রের (সিপিসি) অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক কামরুল আহসান মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য, বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো একত্র করে গুলশান থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল। তবে তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক তিন মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। বুধবার এসব মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে আদালতে। তিনি বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর একটি ক্যাঙারুর চামড়া বিদেশ থেকে আমদানি করেন এবং অবৈধভাবে আরেকটি হরিণের চামড়া নিজ হেফাজতে রেখে বন্য প্রাণী আইনে (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন) অপরাধ করেছেন। এটি অ-আমলযোগ্য অপরাধ হওয়ায় তাঁর বুধবার বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

তিন মামলার তদন্ত শেষ হয়নি
হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে হওয়া পৃথক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এর মধ্যে পল্লবী থানায় করা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণে আইনে মামলাটি পল্লবী থানা তদন্ত করছে।

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এই থানায় হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা পল্লবী থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম। হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলার তদন্তভার সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে জানান ওই থানার ওসি আবুল হাসান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন