default-image

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ক শুনানি পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। এ ছাড়া মামলার তিন নম্বর আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত এবং নয় নম্বর আসামি মো. সাগরের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আছাদুজ্জামান এ আদেশ দেন।

একই সঙ্গে মামলার ৯ আসামি অভিযোগ গঠন থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত অধিকতর শুনানি ও অভিযোগ গঠনের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ গঠনের ধার্য তারিখ থাকায় আজ সকালে বরগুনা কারাগারে থাকা ৮ আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। জামিনে মুক্ত থাকা নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা বাবার সঙ্গে আদালতে আসেন।

এরপর ১ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক হুমায়ূন কবির নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শাকে আসামি রেখে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। এতে ২৪ জনকে আসামি করা হয়। আয়শা এই মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন।

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি (২৩), আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯), আয়শা সিদ্দিকা (১৯), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল ইসলাম সাইমুন (২১)।

আয়শা সিদ্দিকার আইনজীবী মাহবুবুল বারী বলেন, ‘অভিযোগপত্রে আয়শার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাই আমরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছি।’

এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মজিবুল হক বলেন, আজ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পাঁচ নম্বর পলাতক আসামি মুসা ছাড়া অন্য সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, তিন নম্বর আসামি মোহাইমিনুল ও নয় নম্বর আসামি মো. সাগরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালতে।

এর আগে ৬ নভেম্বর রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গঠনসহ বিচারের জন্য প্রস্তুত করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে তাঁর স্ত্রী আয়শার সামনে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। এরপর তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই দিন বিকেলে মারা যান তিনি। পরের দিন ২৭ জুন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে প্রধান সাক্ষী করা হয় আয়শাকে। কিন্তু আয়শার শ্বশুর মামলা দায়েরের ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই এই হত্যাকাণ্ডে আয়শা জড়িত—এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন। মামলার তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। সংবাদ সম্মেলনের পরের দিন আয়শার গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন তাঁরা। সমাবেশে রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ ছাড়াও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় সাংসদের ছেলে সুনাম দেবনাথ বক্তৃতা দেন।

গত ১৬ জুলাই আয়শাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন পুলিশ তাঁকে আদালতে তুলে যখন রিমান্ড আবেদন করেন, তখন তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। গত ২৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আয়শাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন। ৩ সেপ্টেম্বর আয়শা বরগুনা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এখন বাবার বাড়িতে আছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0