১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনার ষড়যন্ত্রের তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ত্র মামলায় বিএনপির নেত্রী ও হাওয়া ভবনের নাম এসেছে। ষড়যন্ত্রের নতুন করে তদন্ত হবে। শাস্তিও হবে। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি কেন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করতে দেব? এই মাটি সন্ত্রাসীদের চারণভূমি হতে দেব না। তাহলে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের মদদ না থাকলে এত অস্ত্র একটা জেটিতে খালাস করা যেত না। অস্ত্র খালাসে ক্রেন পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশের দুই সার্জেন্ট আলাউদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন এটা ধরে ফেলেন। এ জন্য তাঁদের ধন্যবাদ। তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের প্রতিষ্ঠান। তাদের যদি অস্ত্র চোরাচালানে ব্যবহার করা হয়, তাহলে দেশের নিরাপত্তা থাকে কোথায়? মামলায় এসেছে, কীভাবে এনএসআইকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে এ ঘটনা জানিয়েছে। কিন্তু তিনি চুপ ছিলেন। মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেত্রী ভারতের সাতটি রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী ঘটনা সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এসব ঘটনাকে তিনি তাদের স্বাধীনতা আন্দোলন বলেছিলেন। বিএনপির অনেক নেতাও সংসদে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের পর দেশ আইএসআইয়ের (পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা) লীলাখেলার জায়গা হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশ অস্ত্র ও সোনা চোরাকারবারের স্থানে পরিণত হয়েছিল। ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল দেশে ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে চট্টগ্রামের ইউরিয়া সার কারখানার জেটিতে। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে। বিএনপি তখন স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠন করে। নিজামী ছিলেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টা ভারত বনাম পাকিস্তানের। কিন্তু বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার হবে কেন? স্বাধীন দেশের মাটি অন্য দেশের সঙ্গে খোঁচাখুঁচির জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া কেন? দেশকে অস্ত্র চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে কেন দেব? বিএনপি তাই দিত।’

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বগুড়ার কাহালুতে ২০০৫ সালে বিপুল গুলি আটকসহ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘সব ঘটনা এক এক করে তদন্ত করা হবে। ছাড়ব না কাউকে।’

এর আগে সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততার দাবি করে তাঁর বিচার দাবি করা হয়। মাগরিবের নামাজের বিরতির পর আওয়ামী লীগের শেখ ফজলুল করিম সেলিম আলোচনার সূত্রপাত করে বলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টা খালেদা জিয়া জানতেন। তিনি প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এ ঘটনায় যাঁরা সম্পৃক্ত ছিলেন, তাঁদের শাস্তি হয়েছে। তিনি বলেন, এনএসআই প্রধানমন্ত্রীর কথা ছাড়া এক পা-ও অগ্রসর হতে পারে না। সুতরাং খালেদা জিয়ার বিচার হওয়া উচিত। তিনি দায়দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টি সরাসরি সরকারি দলের বিরোধিতা না করলেও দুই পক্ষে কিছুটা তির্যক বাক্যবিনিময় হয়।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, মামলার শুরুতেই কেন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হলো না? এখন বিচার হয়ে গেছে। জাতি সন্তুষ্ট হয়েছে। এখন কেন সস্তা বুলি আওড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, গোটা দেশ তোষামোদকারী আর আজ্ঞাবহে ভরে গেছে। খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে জাসদের মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, কেউ সুপার সিটিজেন নন। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার ঘটনা জেনেও তিনি চুপ ছিলেন। তিনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, এটা রাজা-রানির দেশ নয়। উনাকে সুপার সিটিজেন মনে করলে কিছু হবে না। ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানে জড়িত হিসেবে এনএসআইয়ের নাম পরিবর্তন করা যায় কি না, তিনি সে প্রস্তাব দেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী প্রস্তাব দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়াকে আইনে সোপর্দ করার প্রস্তাব সংসদে পাস করা হোক। তিনি ফিরোজ রশীদের সমালোচনা করে বলেন, তোষামোদ আর খোশামোদ করেই তিনি এ জায়গায় এসেছেন।

আলোচনায় আরও অংশ নেন আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।  

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন