বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার কুমুতলাং শহরের খেম্বুক স্প্রাইট এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় রেজাউল আমিনকে। এ ঘটনায় ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন রেজাউলের ভাই নিজামুর রহমান। মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।

ডিবি ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের অপহরণে বাংলাদেশিরাই জড়িত। অপহৃতদের নির্যাতন করার ভিডিও ধারণ করে তা দেশে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এই টাকা নেন দেশে অবস্থানকারীর সহযোগীরা।’

ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো দেশের নাগরিক অপহৃত হলে সে দেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অ্যান্টি কিডন্যাপিং টাস্ক টিম’ স্থানীয় পুলিশের সহায়তা নিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে কাজ করে। টিমের সহায়তায় রেজাউল অপহরণে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরাই পুলিশকে জানিয়েছেন, অপহরণের স্থান থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে রেজাউলকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

রেজাউলের ভাই নিজামুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রেজাউল ছয় বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে মুদি ব্যবসা শুরু করেন। ভাইকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ভিডিও দেখে পরিবারের সবাই বিমর্ষ হয়ে পড়েন। পরে ধারদেনা করে মুক্তিপণের টাকাও দেওয়া হয়। অথচ ভাইয়ের লাশটাও পাওয়া গেল না। দেশে যাঁদের কাছে টাকা দেওয়া হয়েছে, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হয়নি।

লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা জানা গেল যেভাবে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৭ সালে অ্যান্টি কিডন্যাপিং টাস্ক টিম গড়ে ওঠে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটিতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। গত পাঁচ বছরে এই টিমের সহায়তায় শতাধিক অপহৃত বাংলাদেশিকে সে দেশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রকৃত অপহরণের ঘটনা অনেক বেশি বলে সংগঠনটি জানায়।

সংগঠনটি বলেছে, অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের টার্গেট করেন। অপহরণে দক্ষিণ আফ্রিকার অবসরপ্রাপ্ত কিছু পুলিশ কর্মকর্তাও জড়িত।

অ্যান্টি কিডন্যাপিং টাস্ক টিম সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল অপহরণের ঘটনায় জানুয়ারির শুরুতে চক্রের অন্যতম সদস্য সোলেমানকে গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ। গত ৯ জানুয়ারি ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্স টাউন এলাকায় এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের সময় আটক হন শিহাব উদ্দিন ও আল আমিন নামের দুজন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা বলেন, রেজাউলকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় নূর নবী নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সোলেমানের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ীর নানিন্দা গ্রামে। শিহাবের বাড়িও একই উপজেলার আরামনগরের বাজারের পাশে। নূর নবীর বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুরের নগদা শিমলা এলাকায়। চক্রের অপর সদস্য আল আমিনের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে।

অ্যান্টি কিডন্যাপিং টাস্ক টিমের বাংলাদেশি সদস্য শফিকুল ইসলাম ২৬ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ওই চক্র পাঁচ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশিদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। চক্রের প্রধান শিহাবের নামে দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি মামলা আছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাচ্ছে প্রতিনিধিদল

গত বছরের আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় অপহরণের শিকার হন আরেক বাংলাদেশি রিয়াজ হোসেন পাটোয়ারী। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে নেমে ডিবির ওয়ারী বিভাগ বাংলাদেশ থেকে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরে কৌশলে অপহরণকারীদের কাছ থেকে রিয়াজকে মুক্ত করা হয়।

ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, এ মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে সাক্ষী ও মূল আসামিরা দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছেন। চক্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার কথা রয়েছে। দলে একজন বিচারক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের চারজন কর্মকর্তা থাকবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন