বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বৃক্ষরোপণ, শেল্টার সেন্টার তৈরি, ভবনের নকশার ওপর আরও জোর দিতে হবে।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার, সভাপতি, সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম

২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত গ্লোবাল লাইটেনিং ডিটেকশন নেটওয়ার্কের বজ্রপাত নিয়ে প্রতিদিনের উপাত্ত বিশ্লেষণের ফলাফল সেমিনারে তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেসের অধ্যাপক আশরাফ দেওয়ান বলেন, দেশের সিলেট অঞ্চল তথা সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনায় বেশি বজ্রপাত হয়। হাওর এলাকা ও নিকটবর্তী মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি থাকায় বেশি বজ্রপাত হয়। এ ছাড়া রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে বজ্রপাত হয়।

দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ায় ২০১৬ সালে সরকার এটিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করে। বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ছে জানিয়ে সেমিনারে বলা হয়, ২০১১ সাল থেকে গেল ১১ বছরে বজ্রপাতে ২ হাজার ৮০০ মানুষ মারা গেছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে ৩২৯ জন মারা গেছেন। এ বছর মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত চার মাসে সারা দেশে বজ্রপাতে ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৭ জন।

গ্রামের মানুষের পাশাপাশি শহরেও বজ্রপাতে মৃত্যু হচ্ছে উল্লেখ করে সেমিনারে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি বরযাত্রী দলের ওপর বজ্রপাতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। গত ৫ জুন ঢাকার মালিবাগে বজ্রপাতের সময় দুই শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন।

সভাপতির বক্তব্যে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুসহ ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণা প্রয়োজন। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সুলতানা শফী বলেন, বজ্রপাতের সময় বাসায় ঢোকা নিরাপদ। তবে ধাতব কিছু না ধরা, ভেজা অবস্থায় না থাকা ভালো।

বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ, শেল্টার সেন্টার তৈরি, ভবনের নকশার ওপর আরও জোর দিতে হবে। গত দশ বছরে দেশে সাইক্লোনে মৃত্যুর চেয়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বজ্রপাতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়, মুঠোফোন ব্যবহার বৃদ্ধি, অত্যধিক জনঘনত্ব ও বজ্রপাত মৌসুমে মাঠে-ঘাটে এবং জলাশয়ে মানুষের কাজে সম্পৃক্ততা বেশি বলে সাম্প্রতিককালে মৃত্যু বাড়ছে। তবে বজ্রপাত ও প্রাণহানি বৃদ্ধির অকাট্য প্রমাণ গবেষণায় পাওয়া যায়নি। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামোভিত্তিক সমাধানের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর দিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সচেতন হলে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব।

সেমিনারে পবার সম্পাদক এম এ ওয়াহেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান, কৃষক প্রতিনিধি ইব্রাহীম মিয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন