করোনাভাইরাস

১৫ জেলায় এক মাসে রোগী দ্বিগুণ হয়েছে

গত এক মাসে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি ঢাকা ও রংপুরে। রাজধানীতে এক মাসে ৩১ হাজারের বেশি নতুন রোগী।

করোনাভাইরাস প্রতীকী ছবি।
করোনাভাইরাস প্রতীকী ছবি।
বিজ্ঞাপন

দেশের সব জেলাতেই করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। তবে ১৫টি জেলায় পবিত্র ঈদুল আজহার পরের এক মাসে রোগী বৃদ্ধির হার বেশি দেখা গেছে। এই জেলাগুলোতে এক মাসের ব্যবধানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

এই এক মাসে তুলনামূলক নতুন রোগী বৃদ্ধির হার বেশি দেখা গেছে ঢাকা ও রংপুর বিভাগে। যে ১৫টি জেলায় আগের চার মাসের তুলনায় গত এক মাসের ব্যবধানে ১০০ শতাংশের বেশি নতুন রোগী যুক্ত হয়েছে, তার চারটি ঢাকা বিভাগের, পাঁচটি রংপুর বিভাগের। শুরু থেকেই রাজধানীতে সংক্রমণ বেশি। এখনো সে ধারা অব্যাহত আছে। রাজধানীর পাশাপাশি এই বিভাগের সব জেলাতেই নতুন রোগী বেড়েছে। এই ১৫টি জেলার বাইরে দেশের আরও ১৯টি জেলায় গত এক মাসে ৫০ থেকে ৮৫ শতাংশ নতুন রোগী বেড়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণ

দেশে করোনা সংক্রমণ যে ১৫ জেলায় রোগী দ্বিগুণ হয়েছে : রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, নাটোর ও শেরপুর।
  • মোট শনাক্ত (৮ মার্চ—১ সেপ্টে.) - ৩,১৪,৯৪৬

  • মোট সুস্থ -২,০৮,১৭৭

  • মোট মৃত্যু - ৪,৩১৬

২৪ ঘণ্টার চিত্র

  • নমুনা পরীক্ষা ১২,২০৯

  • শনাক্ত রোগী - ১,৯৫০

  • মৃত্যু - ৩৫

  • সুস্থ - ৩,২৯০

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

এত দিন ধরে উত্তরবঙ্গে তুলনামূলক সংক্রমণ কম দেখা গেলেও এখন সেখানে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় উত্তরবঙ্গ তথা রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে এখন সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ১ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়। ঈদ উপলক্ষে পশুর হাটগুলোতে মানুষের ব্যাপক সমাগম এবং গ্রামে যাতায়াতের কারণে বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে নতুন রোগী বেড়ে যাবে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত সংক্রমণ রেখায় সে রকম কোনো লাফ দেখা যায়নি। একাধিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় সংক্রমণের পুরো চিত্র বোঝা যাচ্ছে না।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৯৫০ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ লাখ ১৪ হাজার ৯৪৬। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৫ জন। এ নিয়ে মোট মারা গেছেন ৪ হাজার ৩১৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৮ হাজার ১৭৭ জন।

১৫ জেলায় রোগী বৃদ্ধির হার বেশি

শুরু থেকে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেশি। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীর সংক্রমণ পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও গত এক মাসে রাজবাড়ী, ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জে দ্রুত নতুন রোগী বাড়তে দেখা গেছে। ঢাকার এই চারটি জেলায় গত এক মাসে ১০২ থেকে সর্বোচ্চ ২৬৭ শতাংশ নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি নতুন রোগী বেড়েছে রাজবাড়ীতে। আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, এই জেলায় ৩০ জুলাই পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ছিলেন ৫৬৩ জন। এক মাসের ব্যবধানে গতকাল সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬০।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তরবঙ্গের রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা এখনো কম। তবে এই বিভাগের আটটি জেলার মধ্যে পাঁচটিতেই গত এক মাসে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশের বেশি। সেগুলো হলো লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও। ৩০ জুলাই পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ে মোট আক্রান্ত ছিলেন ৩০১ জন। এক মাসের ব্যবধানে রোগী বেড়ে এখন সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫০।

অন্য জেলাগুলোর মধ্যে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, নাটোর ও শেরপুরে এক মাসে মোট রোগী দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে। এই ১৫টি জেলার মধ্যে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি শেরপুরে। আইইডিসিআরের তথ্য বলছে, ৩০ জুলাই পর্যন্ত এই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৪। এখন সেটা ৪৩২।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাজধানীতে বেড়েছে ৬৫ শতাংশ

আইইডিসিআরের হিসাবে, গতকাল পর্যন্ত রাজধানীতে মোট প্রায় ৮০ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সংক্রমণের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে আক্রান্তের সংখ্যা এবং জনসংখ্যার অনুপাতে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি রাজধানী ঢাকায়। এখনো প্রতিদিন শনাক্ত হওয়া নতুন রোগীদের একটি বড় অংশ রাজধানীর। ঈদের পরের এক মাসে রাজধানীতে নতুন রোগী যুক্ত হয়েছে সাড়ে ৩১ হাজার। রোগী বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ।

এ ছাড়া টাঙ্গাইল, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, যশোর, বাগেরহাট, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, জামালপুর, বরগুনা, বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহীতেও গত এক মাসে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। এই জেলাগুলোতে এই এক মাসে আগের চার মাসের তুলনায় ৫০ থেকে ৮৫ শতাংশ নতুন রোগী বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এখন বাড়ছে উত্তরবঙ্গে

আইইডিসিআরের গত দুই সপ্তাহের এলাকাভিত্তিক রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই এই সময়ে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার ১০ শতাংশের বেশি। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি হারে নতুন রোগী যুক্ত হয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলায় ৯৯ শতাংশ। এ ছাড়া এই অঞ্চলের দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটে দুই সপ্তাহে ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ নতুন রোগী বেড়েছে। আর গাইবান্ধা ও রংপুর জেলায় বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি। বিভাগওয়ারি চিত্র থেকে দেখা যায়, দুই সপ্তাহ ধরে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার বেশি রংপুর বিভাগে।

এ ছাড়া নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, যশোর, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জেও নতুন রোগী দ্রুত বাড়ছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এখানে নতুন রোগী বৃদ্ধির হার ৩০ শতাংশের বেশি।

আইইডিসিআরের পরামর্শক মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, উত্তরবঙ্গে বন্যার কারণে এত দিন হয়তো তথ্য পূর্ণাঙ্গ ছিল না বা মানুষ পরীক্ষাও কম করিয়েছেন। এখন বন্যার পানি নেমে গেছে। সেখানে নতুন রোগী বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, যদি টানা তিন সপ্তাহ পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা যাবে। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও শর্ত আছে, দিনে অন্তত ২০ হাজার পরীক্ষা করতে হবে এবং দেশের সব জেলা থেকে নমুনা আসছে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন