কুমিল্লার ১১ স্থান

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা- গোমতী সেতুর টোল প্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মোহাম্মদ আলী এলাকা পর্যন্ত ৯৮ কিলোমিটার এলাকায় মহাসড়কের পাশে ১১টি স্থানেই বাজার ও পশুর হাট বসে। এই ১১টি স্থান হচ্ছে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাজার, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, বুড়িচং উপজেলার নিমসার পাইকারি সবজিবাজার, আদর্শ সদর উপজেলার ময়নামতী সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পদুয়ার বাজার, সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী বাজার, চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার, মিরসানি বাজার, চৌদ্দগ্রাম বাজার, দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ বাজার ও গৌরীপুর। এসব স্থানে সংযোগ সড়ক থেকে আসা তিন চাকার বাহনও যানজট সৃষ্টি করে।

কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী এশিয়া লাইন পরিবহনের চালক নাজমুল হাসান বলেন, সড়ক ভালো থাকলেও যাত্রা স্বস্তির হয় না। সড়কের পাশের বাজারগুলোর কারণে তীব্র যানজট হয়।

সওজ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, মহাসড়কে যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সওজের ৪০ স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। ঈদের আগের ও পরের দিন মহাসড়কের ৯৮ কিলোমিটার এলাকায় একটি গাড়ি টহলে থাকবে। সড়কে খানাখন্দ হলে তাৎক্ষণিক মেরামত করা হবে।

হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সওজের ৪০ স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। কোথাও সড়কে খানাখন্দ হলে তাৎক্ষণিক মেরামত করা হবে।
সুনীতি চাকমা, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী, সওজ

ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে জট

মহাসড়কের চট্টগ্রাম অংশে যানজটের ভোগান্তি বাড়তে পারে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগাহাটের ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কারণে। মূল লেনের বাইরে মালবাহী গাড়ির ওজন মাপতে বাড়তি আরও পাঁচটি লেন আছে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে। সন্ধ্যার পর ঢাকামুখী মালবাহী গাড়ির চাপ বাড়ে। এ সময় শুধু পশ্চিম পাশের দুটি লেনেই ওজন মাপা হয়। এতে তৈরি হয় গাড়ির লম্বা সারি। এ সারি লেনের বাড়তি অংশ ছাড়িয়ে মূল সড়কে চলে গেলে আটকে পড়ে অন্য সব গাড়ি। এতে সড়কে তৈরি হয় যানজট।

এ ছাড়া সীতাকুণ্ড উপজেলার তিনটি কনটেইনার ডিপোর কারণে যানজট হতে পারে। এগুলো হচ্ছে জোড়ামতল কেডিএস কনটেইনার টার্মিনাল, ভানুর বাজার পোর্টলিংক কনটেইনার টার্মিনাল ও গোল্ডেন কনটেইনার টার্মিনালের সিটি গেট এলাকা।

গতকাল সরেজমিনে বড় দারোগারহাট ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাঁচটি লেনে গাড়ি পারাপার হচ্ছে। পশ্চিম পাশের ঢাকামুখী দুটি লেনে মাঝেমধ্যে তৈরি হচ্ছে মালবাহী গাড়ির লম্বা সারি। চালকেরা জানান, সন্ধ্যা থেকে মালবাহী গাড়ির সারি দীর্ঘ হতে থাকে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এলাকায় যাতে কোনো যানজট তৈরি না হয়, সে জন্য সেখানে আমাদের একটি দল নিয়োজিত থাকবে।
মো. আবদুল্লা, ওসি, কুমিরা হাইওয়ে থানা

জানতে চাইলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, এবার ঈদে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এলাকায় যাতে যানজট না হয়, সে জন্য বাড়তি কর্মী থাকবে। নেওয়া হবে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ২০ বছর ধরে নিয়মিত যাত্রীবাহী বাস চালান মো. আবুল খায়ের। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর চট্টগ্রাম থেকে মালবাহী গাড়ি ছাড়ার পর ওজন কেন্দ্রের ঢাকামুখী লেনে যানজট হতে পারে। বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে যানজটে সড়কের এই অংশে ঈদের সময় দুর্ভোগ বাড়বে।

চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ, ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে মিরসরাই উপজেলার ধুমঘাট সেতু পর্যন্ত ৬৬ কিলোমিটার সড়কের দায়িত্বে আছে সওজ।

চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর থেকে সড়ক দুর্ঘটনা, বড় সংস্কারকাজের জন্য এক লেন বন্ধ রাখা, সীতাকুণ্ড উপজেলার কয়েকটি কনটেইনার ডিপো গেটে ট্রাকজট ও বড় দারোগারহাট এলাকার ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কারণে মাঝেমধ্যে যানজট হচ্ছে।

কুমিরা হাইওয়ে থানা–পুলিশের ওসি মো. আবদুল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বড় দারোগারহাট ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এলাকায় যাতে কোনো যানজট তৈরি না হয়, সে জন্য সেখানে আমাদের একটি দল নিয়োজিত থাকবে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন