লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার পাটগ্রাম ইউনিয়নের উকুনি নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ১৭ বছর আগে বিধ্বস্ত হয়। আজও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ না করায় উপজেলার সাত গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে ১২ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস ১৯৮৫ সালে উপজেলার মাঝিপাড়া-পাটগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের উকুনিরপাড় গ্রাম এলাকায় সেতুটি নির্মাণ করে। এর দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। পাটগ্রাম ইউনিয়নের উকুনিরপাড়, মাঝিপাড়া, পশ্চিম মাঝিপাড়া, দরগারপাড়, ডাঙ্গাপাড়া, পেদিরবাড়ি, কামাতপাড়া গ্রামের লোকজনের চলাচলের জন্য এটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যায় এটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৯৯ সালের বন্যায় সেঁতুটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। পরে এলাকাবাসী ওই স্থানে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।
এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৯ সালে সেতুটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর তৎকালীন ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন। এরপর পাটগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও সেতুটি নির্মাণ করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামটিকে উকুনি নদী দুই ভাগে ভাগ করেছে। সেখানে নদীর ওপর নড়বড়ে খুঁটির ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি একটু কাত হয়ে আছে। এ কারণে বাঁশ দিয়ে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে সেটি পড়ে না যায়। লোকজনকে এ অবস্থাতেই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
মাঝিপাড়া এলাকার মনসুর আলী জানান, এ পথে দিয়ে পাটগ্রাম উপজেলা সদরের দূরত্ব ছয় কিলোমিটার। আর ঘুরে গেলে উপজেলা সদরের দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। সে কারণে এ গ্রামের লোকজনকে কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য উপজেলার রসুলগঞ্জ হাটে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।
কলেজছাত্র আওয়াল হোসেন বলেন, গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ে উপজেলা সদরের স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করে। নদীটির কারণে অনেকেই বর্ষার সময় স্কুল-কলেজে যেতে চায় না।
উপজেলা প্রকৌশলী হায়দার আলী বলেন, স্থানীয় সাংসদসহ এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে, সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন