default-image

সারা দেশে নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ, নৌ-শ্রমিকদের খাদ্য ভাতা দেওয়াসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নৌযানশ্রমিকেরা। এই ১১ দফা দাবি না মানা হলে ১৯ অক্টোবর থেকে তাঁরা কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে নৌযানশ্রমিকেরা কাজ করেছেন। অথচ চার মাস পেরোলেও তাঁদের প্রতিশ্রুত খাদ্য ভাতা দেওয়া হয়নি। এমনকি সরকার বা মালিকের পক্ষ থেকে একটা ধন্যবাদও জোটেনি।

‌১১ দফা দাবি না মানা হলে ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভারতগামী নৌযানসহ সব ধরনের পণ্যবাহী, বালুবাহী, তেলবাহী নৌযানে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌযানশ্রমিকেরা।

নৌযানশ্রমিকদের অন্যতম দাবিগুলো হলো ভারতগামী নৌযানে শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাসের ব্যবস্থা করা, কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন করা, মৃত্যুকালীন ভাতা ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা ও নৌযানশ্রমিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বন্ধ করা।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, এই ১১ দফা দাবি ২০১৮ সালে প্রথমে তোলা হয়। এরপর নৌযানশ্রমিকেরা গত বছর তিনবার এই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন। প্রতিবারই সরকার ও মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। শ্রমিকেরা বারবার আন্দোলনে নেমেছেন। কিন্তু তাঁদের ভাগ্যে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই জোটেনি।

মো. শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, করোনার সময়ে নৌযানশ্রমিকেরা পুরোদমে কাজ করেছেন। বর্তমানে অনেকেই অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। শ্রমিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। চার মাস পার হলেও নৌযানশ্রমিকদের প্রতিশ্রুত খাদ্য ভাতা দেওয়ার এখনো কোনো উদ্যোগ নেই। তাই কঠোর আন্দোলন করা ছাড়া তাঁদের আর কোনো পথ নেই।

নৌযান শ্রমিকেরা বলছেন, মার্চে দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি দেয় খাদ্য ভাতা দেওয়ার। অথচ কোনো নৌযানশ্রমিকেরা কোনো রকমের খাদ্য ভাতা পাননি। শ্রমিকদের নিয়োগপত্র হয়নি, কল্যাণ ফান্ড নেই। শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি কার্যকর বা বাস্তবায়ন হয় না।
সকালের মানববন্ধনে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলমসহ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন।

মন্তব্য পড়ুন 0