যেভাবে অর্থ অপচয়

সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিট জাহাজ দুটি ফেলে রেখে শেষ দুই অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ৪৯ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে। সূত্র বলছে, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরে রাখা আছে জাহাজ দুটি। গত দুই বছরে ওই দুটি জাহাজ সংরক্ষণে চট্টগ্রাম মৎস্য বন্দরকে প্রায় ২৪ লাখ টাকা দিতে হয়েছে অধিদপ্তরের। এ ছাড়া দুই লাখের বেশি ভ্যাট ও আয়কর বাবদ এক লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ সংরক্ষণের জায়গায় নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন ১১ জন ডেকহ্যান্ড শ্রমিক ও ৩ জন স্থায়ী কর্মচারী। গত দুই বছরে দৈনিক ৫৭৫ টাকা হারে ১১ জন শ্রমিকের পেছনে ৪ লাখ টাকার বেশি এবং স্থায়ী ৩ কর্মচারীকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এই দুই বছরে এভাবে প্রায় সাড়ে ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

সংকট যেখানে

অকেজো ঘোষণার বছরই দুটি জাহাজ বিক্রির উদ্যোগ নেয় মৎস্য অধিদপ্তর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, ২০১০ সাল থেকে আর ভি অনুসন্ধানী জাহাজটি বিক্রির জন্য নয়বার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নবম দরপত্র আহ্বানের কাজ চলাকালে ২০১৫ সালে অষ্টম দরপত্রে ১ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকায় জাহাজটি কিনে নেয় মেসার্স আদান ট্রেডিং।

অন্যদিকে ২০১৯ সালে ৪৫ লাখ ৫ হাজার টাকায় আর ভি মাছরাঙা জাহাজ কিনে নেয় মেসার্স অ্যাককেড এন্টারপ্রাইজ।

কিন্তু বিক্রি চূড়ান্ত হওয়ার পর জাহাজ দুটি দিয়ে মাছ ধরা যাবে না—এমন শর্ত জুড়ে দেয় মন্ত্রণালয়। এতে জাহাজ দুটি নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উচ্চ আদালতে মামলা করে ওই দুই প্রতিষ্ঠান। মামলা দুটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি এবং উচ্চ আদালতে মামলা করে।

চট্টগ্রামের সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তরের পরিচালক (সামুদ্রিক) ও সামুদ্রিক মৎস্য জরিপ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যে শর্তে জাহাজ দুটি দিতে চাই, সেই শর্তে তারা নিতে চায় না।’

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ মাহবুবুল হক সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, মামলা দুটি নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া দরকার।