ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মিলহাট শাসলাপিয়ালা থেকে সোনাহার পর্যন্ত সড়কের পাশ থেকে দুই শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হলেও গতকাল রোববার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) জব্দ করেছে মাত্র ২৫১টি টুকরা।
গতকাল প্রথম আলোয় ‘সড়কের গাছ কেটে নিচ্ছেন যুবলীগের নেতারা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাছগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেন।
ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আরডিআরএস-বাংলাদেশের আউলিয়াপুর ইউনিয়ন ফেডারেশনের প্রতিনিধি ও গাছ কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেতাদের ডেকে তাঁদের সপক্ষে কাগজপত্র দেখাতে বলেন ইউএনও। তাঁরা গাছ বিক্রি ও কেনার পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এরপর ইউএনও আউলিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাফুরুল্লাহকে অবৈধভাবে কাটা গাছগুলো চিহ্নিত করে জব্দ করার নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবদুল হামিদ ও গ্রাম পুলিশ তরিকুল ইসলামকে গাছগুলো জব্দ করার দায়িত্ব দেন।
আবদুল হামিদ বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. সুমনের করাতকল থেকে ২৫১টি টুকরা জব্দ করে ইউপির হেফাজতে রাখা হয়েছে। জব্দ করা গাছগুলো অধিকাংশই তিন থেকে ছয় ফুটের মধ্যে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কচুবাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা জানান, গতকাল সকাল পর্যন্ত ওই করাতকলে গাছের আরও বেশি স্তূপ ছিল। জব্দ করার খবর পেয়ে গাছের অধিকাংশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউএনও গোলাম আজম জানান, পরে বন বিভাগের দ্বারা মূল্য নির্ধারণের পর তা দরপত্র আহ্বান করে তা বিক্রি করা হবে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ১৯৯৮ সালে আরডিআরএস-বাংলাদেশের সঙ্গে সদর উপজেলা প্রকৌশলী একটি চুক্তি হয়। চুক্তির পর আরডিআরএস-বাংলাদেশের আউলিয়াপুর ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্যরা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের পাশে নানা প্রজাতির এক হাজার ২৭টি গাছ রোপণ করেন। সড়কের পাশের বাসিন্দা ও সদস্যরা ওই গাছের পরিচর্যা করেন। কাটার উপযুক্ত হলে একটি নিলাম-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ওই গাছগুলো বিক্রি করার কথা। ২০১১ সালের মার্চে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত পেয়ে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউনিয়ন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মো. দবিরুল ইসলাম ৩৩০টি গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। সেই আবেদন অনুমোদন না হওয়ায় গাছ কাটার প্রক্রিয়া সে সময় বন্ধ থাকে।
এরপর আর গাছ কাটার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গত শুক্রবার ও শনিবার ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ফেডারেশনের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার অজুহাতে ওই সড়কের দুই শতাধিক গাছ কেটে নেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন