বাংলাদেশের পোলট্রি খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি আর ২ শতাংশ বাড়লে ২০৩০ সালের মধ্যে মুরগিই হয়ে দাঁড়াবে এ দেশের মানুষের মাংসের প্রধান উৎস। আর ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ মুরগি ও ডিম রপ্তানি শুরু করবে।
গতকাল শনিবার নবম আন্তর্জাতিক পোলট্রি শো ও সেমিনার-২০১৫-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এ খাতের উদ্যোক্তারা এই লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক সমাপনী পর্ব। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই পোলট্রি শো ও সেমিনার শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজক বিশ্ব পোলট্রি বিজ্ঞান সমিতি-বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, একটা গরু খাবার উপযোগী হয়ে উঠতে সময় নেয় কমপক্ষে দেড় বছর, ছাগল সাত থেকে নয় মাস এবং মাছ প্রকার ভেদে চার থেকে নয় মাস। অথচ মুরগি খাবার উপযোগী হয়ে ওঠে মাত্র ৩০ থেকে ৩২ দিনে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এফএওর দেশীয় প্রতিনিধি মাইক রবসন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে পোলট্রিশিল্প ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু ডিম ও মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।
বিশ্ব পোলট্রি বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ই এন সিলভা ব্রাজিলে পোলট্রিশিল্পের অভাবনীয় অগ্রগতির কথা তুলে ধরে বলেন, ব্রাজিলের মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। অন্য বক্তারা বলেন, বর্তমানে পোলট্রি খাতে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ এই খাতে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। উদ্যোক্তারা জানান, প্রায় ২৩টি দেশের প্রতিষ্ঠান, গবেষক ও বিজ্ঞানী তিন দিনের এই পোলট্রি শো ও সেমিনারে অংশ নেন। পোলট্রি শোর সেরা স্টল হিসেবে প্রথম পুরস্কার পান এসিআই অ্যানিমেল হেলথ, দ্বিতীয় রেনাটা অ্যানিমেল হেলথ এবং তৃতীয় পুরস্কার ফেকো ইকুইপমেন্ট লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন