মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ২৩টি প্রতিষ্ঠান এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়নি। এ বিষয়ে চিঠি দিলেও তারা শিক্ষা বোর্ডকে জবাব দেয়নি। এ অবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষাবোর্ড।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের আওতাধীন ১ হাজার ৩১১টি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ শিক্ষার্থীদের ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা ছিল। এর মধ্যে মাত্র ১০৮টি প্রতিষ্ঠান অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা শিক্ষা বোর্ডকে জানিয়েছে। আর ৩৩২টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় করেনি। বাকি ৮৭১টি প্রতিষ্ঠান কোনো তথ্যই জানায়নি। এই ৮৭১টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বোর্ড। গত ৬ মার্চ থেকে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ে ৮৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বোর্ডের নোটিশের জবাব দেয়। বাকি ২৩টি প্রতিষ্ঠান নোটিশের কোনো জবাব দেয়নি বা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শিক্ষা বোর্ডকে জানায়নি। এখন এগুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ড থেকে চূড়ান্তভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা চলছে।
এ বিষয়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সামসুল কালাম আজাদ বলেন, অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ ফেরতের বিষয়ে আদালতের রায় রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তারপরও যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নোটিশের জবাব দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনি, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ২৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজশাহী নগরে দুটি, গোদাগাড়ী উপজেলায় তিনটি, তানোরে ছয়টি, দুর্গাপুরে আটটি, পুঠিয়ায় একটি ও চারঘাটে তিনটি বিদ্যালয় রয়েছে।
বোর্ড সূত্র জানায়, এর বাইরে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলেও তাদের নাম তালিকায় নেই। সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নিতে গিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। তারা শিক্ষা বোর্ডে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছে। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী নগরের চারটি বিদ্যালয়কে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চাইতে গেলে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা অস্বীকার করছে। অভিভাবকদের সঙ্গে করছে দুর্ব্যবহার। এমনকি সনদ না দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী বোর্ডে অভিযোগ করেছে।
জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী সরদার বলেন, ‘ভুলবশত নয়-দশজন শিক্ষার্থীর রশিদ লিখতে গিয়ে শ্রেণি শিক্ষক অতিরিক্ত অর্থ লিখে ফেলেছিলেন। ওই রশিদ নিয়েই শিক্ষার্থীরা দৌড়াদৌড়ি করছে। আমরা তা লিখিতভাবে বোর্ডকে জানিয়ে দিয়েছি। আমরা আসলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করিনি।’
তবে লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আদায় করা অর্থ শিক্ষার্থীদের ফেরত দিয়েছে। তারপরও তাদের নাম ২৩ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর বলেন, ‘আমরা বোর্ডের চিঠি না পেলেও নিজ দায়িত্বে টাকা ফেরত দিয়েছি। সে জন্য মনে করেছিলাম, বোর্ডকে জানানোর দরকার নেই। কিন্তু এখন জানাব।’
লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন