default-image

বুড়িগঙ্গায় এমভি ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামের লঞ্চ ডুবে ৩৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। শিগগির ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হতে পারে।

ঢাকা জেলা নৌ পুলিশ প্রধান পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার ফরিদুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, ওই লঞ্চ দুর্ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষ।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে চলতি সপ্তাহে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হতে পারে। লঞ্চ দুর্ঘটনাটির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার, মামলার প্রয়োজনীয় আলামত জব্দ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৯ জুন সকালে বুড়িগঙ্গা নদীতে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকার সদরঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মর্নিং বার্ড লঞ্চকে এমভি ময়ূর-২ ধাক্কা দিলে লঞ্চটি আড়াআড়ি হয়ে যায়। এরপর লঞ্চটির ওপর ময়ূর-২ উঠে যায়। এতে মর্নিং বার্ডের ৩৪ যাত্রী ডুবে মারা যান। এ ঘটনায় সদরঘাট নৌ থানা-পুলিশের এসআই মো. শামসুল আলম বাদী হয়ে ময়ূর-২ লঞ্চের মালিকসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

পরে ময়ূর-২-এর মালিক মোসাদ্দেক হানিফসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে সদরঘাট নৌ থানার পুলিশ। তাঁদের পাঁচজন জামিনে রয়েছেন। এই পাঁচজন হলেন মোসাদ্দেক হানিফ, লঞ্চটির কর্মচারী দেলোয়ার হোসেন, আবু সাঈদ, সেলিম হোসেন ও আবদুস সালাম। কারাগারে আছেন লঞ্চের ইঞ্জিনচালক শিপন হাওলাদার ও শাকিল হোসেন, লঞ্চের মাস্টার জাকির হোসেন ও আবুল বাশার মোল্লা, সুকানি নাসির মৃধা এবং কর্মচারী মো. হৃদয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শহিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৩৪ জনের মৃত্যুর ঘটনার মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে আদালতে শিগগিরই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ময়ূর-২ লঞ্চের সুকানি নাসির মৃধা ও মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কীভাবে ময়ূর-২ লঞ্চ সেদিন মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয় ও পরে লঞ্চটি ডুবে যায়, সেই বর্ণনা তাঁদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

default-image

ইতিমধ্যে নৌ থানার পুলিশ এক প্রতিবেদনে আদালতকে জানায়, মাস্টারের পরিবর্তে ময়ূর-২ লঞ্চটি চালাচ্ছিলেন সুকানি নাসির উদ্দিন মৃধা। বেপরোয়াভাবে লঞ্চ চালিয়ে ছোট আকৃতির লঞ্চ মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দিয়ে তিনি সেটি ডুবিয়ে দেন। মাস্টার আবুল বাশারের নির্দেশনায় লঞ্চ চালাচ্ছিলেন নাসির। বাশারসহ লঞ্চের অন্য কর্মচারীরা এ সময় দায়িত্বে অবহেলা করেন।

এদিকে দুর্ঘটনার জন্য ময়ূর-২ লঞ্চের চালকসহ লঞ্চের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়ী করেছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তদন্ত কমিটি।

দুর্ঘটনায় মা ময়না বেগম আর বোন মুক্তা আক্তারকে হারান মুন্সিগঞ্জের যুবক রিফাত হোসেন। অবশ্য সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী রিফাত প্রথম আলোকে বলেন, সেদিন মা-বোনসহ মর্নিং বার্ড লঞ্চের যাত্রী হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। লঞ্চটি সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের কাছে আসার পর হঠাৎ ময়ূর-২ লঞ্চটি তাঁদের লঞ্চকে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যে লঞ্চটি উল্টে পানিতে তলিয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর ময়ূর-২ জব্দ করে পুলিশ। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ১৪ ডিসেম্বর ময়ূর-২ লঞ্চ মালিকের জিম্মায় দেওয়ার অনুমতি দেন আদালত। এর আগে লঞ্চটি তাঁর জিম্মায় দেওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মালিক মোসাদ্দেক হানিফ। এ প্রসঙ্গে নৌ পুলিশ কর্মকর্তা মো. শহিদুল আলম বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী লঞ্চটি মালিকের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন