বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

র‍্যাব জানায়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রচারিত হওয়ার পর তারা আসাদুলকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এর ধারাবাহিকতায় র‍্যাব-১২ অভিযান চালিয়ে আজ ভোরে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে আসাদুলকে গ্রেপ্তার করে।

আসাদুলের বাড়ি গাইবান্ধার কুমিরাডাঙ্গায়, বাবার নাম জয়নুদ্দিন মীর।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুল স্বীকার করেছেন যে তিনি চিকিৎসারত অবস্থায় বিকাশের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক বিচ্ছিন্ন করেছেন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে বগুড়া থেকে নওগাঁ যান, পরে ঢাকায় আসেন। ঢাকা থেকে তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে আত্মগোপন করার পরিকল্পনা করছিলেন।

র‍্যাব জানায়, আসাদুল ৬ বছর ধরে হাসপাতালটিতে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) হিসেবে অস্থায়ীভাবে কাজ করে আসছেন। তিনি প্রতিদিন বেলা দুইটা পর্যন্ত কাজ করতেন। বিকেল থেকে তিনি হাসপাতালের জরুরি আউটডোরে রোগীদের ট্রলিতে করে পৌঁছে দেওয়াসহ দালালির কাজ করতেন। এ কাজের মাধ্যমে তিনি রোগীদের কাছে থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতেন।

default-image

ঘটনাটি সম্পর্কে র‍্যাব জানায়, বিকাশ গাইবান্ধার একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে কাজ করত। ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় বিকাশ বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে বিকাশকে বগুড়ায় নেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পৌঁছায় সে। এ সময় আসাদুল দালালি বাবদ ৫০০ টাকা দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০ টাকায় রাজি হন। বিকাশকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক রোগীকে জরুরি সেবা দিয়ে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেন। আসাদুল রোগীকে সার্জারি ওয়ার্ডে নিয়ে যান। শয্যা ফাঁকা না থাকায় তাকে মেঝেতে শয্যা দেন তিনি। পরে বিকাশের অভিভাবকের কাছে টাকা চান আসাদুল। অভিভাবকের কাছে ১৫০ টাকা ছিল। তাই তিনি আসাদুলকে ১৫০ টাকা দেন। তখন আসাদুল আরও টাকা দাবি করেন। বিকাশের অভিভাবক বলেন, তাঁর কাছে আর টাকা নেই। তখন আসাদুল উত্তেজিত হয়ে বিকাশের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেন, গালাগালি করেন। এরপরই শ্বাসকষ্টের কারণে বিকাশ মারা যায়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন