বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিমতলীতে মারা যান ১২৪ জন

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১২৪ জন প্রাণ হারান, কয়েক শ ব্যক্তি আহত হন। ঢাকা শহরে অগ্নিকাণ্ড রোধে পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা নিয়ে ওই বছরের ১০ জুন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), ব্র্যাকের পরিচালক (হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস), ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের (আইএবি) পক্ষে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ও ঢাকার সূত্রাপুরের এক বাসিন্দা রিট করেন।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১০ জুন হাইকোর্ট রুল দিয়ে ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করাসহ কয়েক দফা নির্দেশনা দেন। এরপর কারণ উদ্‌ঘাটনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে ১৭টি সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ছিল জরুরি ভিত্তিতে আবাসিক এলাকা থেকে গুদাম বা রাসায়নিকের কারখানা সরিয়ে নেওয়া, অনুমোদনহীন কারখানার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ও আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক বা বিস্ফোরকজাতীয় পদার্থ মজুতকরণ বা বিপণন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা।

২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারে চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিমতলীর ঘটনা নিয়ে করা রিটের ধারাবাহিকতায় চকবাজারের আগুনের ঘটনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে বেলাসহ পাঁচটি বেসরকারি সংস্থা ও একই ব্যক্তি ওই বছরেরই ২৪ ফেব্রুয়ারি একটি সম্পূরক আবেদন করে হাইকোর্টে। শুনানিতে ২০১৯ সালের ৬ মার্চ হাইকোর্ট বলেছিলেন, আগের দেওয়া আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। আদালত এবার আগের আদেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

সেই রিটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, নিমতলীর ঘটনায় করা রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে যেসব প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেগুলো এখনো দাখিল করা হয়নি। যে কারণে রুলের চূড়ান্ত শুনানিও করা যায়নি। তিনি বলেন, ‘নিমতলীর ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশ সম্পর্কে আমরা বিভিন্নভাবে জেনেছি। কিন্তু বাস্তবে এর ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে প্রশাসন। যেমন চুড়িহাট্টায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো গ্রহণযোগ্য ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলেও রাসায়নিকের গুদাম রাখা ওয়াহিদ ম্যানশনের সংস্কার কিন্তু ঠিকই হয়েছে। রাজধানীর সব রাসায়নিকের গুদাম একটি নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও সেখানে একটি ইটের গাঁথুনি এখনো গড়ে ওঠেনি।’

তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত

রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন পোশাক কারখানায় ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১১২ জন নিহত হন। আহত হন ১৪১ শ্রমিক। আসক, ব্লাস্ট, নিজেরা করি ও ব্র্যাক এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে তখনই হাইকোর্টে রিট করে।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৬ নভেম্বর রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট। ওই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। একই সঙ্গে সারা দেশের পোশাক কারাখানার তালিকা, আইন ও বিধি মেনে কারাখানাগুলো চলছে কি না এবং অগ্নিকাণ্ড থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই রিটের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্লাস্টের আইনজীবী শারমিন আকতার প্রথম আলোকে বলেন, রিটটি এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

একই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে ২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল তিন ব্যক্তি আরেকটি রিট করেন। ওই বছরের ১৯ মে হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। পরিচয় নিশ্চিত হতে অজ্ঞাত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষারও নির্দেশ দেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। ওই বছরের জুলাইতে বিজিএমইএ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার তথ্য জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশের পর তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত এবং নিহত শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্বর্তীকালীন কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ স্থায়ীভাবে নির্ধারণে আদালতে একটি প্রস্তাব দাখিল করা হয়। তিনি বলেন, ‘একজন শ্রমিক কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মারা গেলে তার ক্ষতিপূরণের বিধান সব আইনে আছে। তবে তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে দুর্ঘটনা বলা যায় না। এটা অবহেলাজনিত হতাহতের বিষয়।’ এই রিটটিও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে বলে জানান তিনি।

ট্যাম্পাকোয় অগ্নিকাণ্ডে ৩৯ জন নিহত

২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরী এলাকার ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৩৯ জন নিহত হন। আহত হন ৩৫ জন। ওই দুর্ঘটনা এড়াতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা, ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। রুলে দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

এই রুলেরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

চুড়িহাট্টায় নিহত ৭১, চার রিট

চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও অনেকে। ওই ঘটনার পর পৃথক চারটি রিট হয়। চারটি রিটের মধ্যে একটি করেন আইনজীবী নূর মুহাম্মদ আজমীসহ দুজন। আদালতের কাছে রাসায়নিকের উৎপাদন, ব্যবহার, বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণে আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চান তাঁরা। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন।

রুলে এর আগে নিমতলীর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং চকবাজারে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। সেদিন শুনানিকালে আদালত বলেছিলেন, নিমতলীর ঘটনায় ২০১০ সালে কমিটি সুপারিশ করলেও এর বাস্তবায়ন হয়নি। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়, সুপারিশ হয়। তবে সুপারিশ আলোর মুখ দেখে না। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় দরকার। সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ৮০ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

রিট আবেদনকারী নূর মুহাম্মদ আজমী প্রথম আলোকে বলেন, ‘রুলের জবাব এখনো পাইনি ও রুলের চূড়ান্ত শুনানিও করা যায়নি।’

চুড়িহাট্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পকারখানার জন্য সেফজোন গড়তে নীতি প্রণয়নে নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, চকবাজারের আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চেয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ পৃথক রিট করেন। এ ছাড়া পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল কারাখানা, গুদাম ও সিলিন্ডার অন্যত্র সরানোর নির্দেশনা চেয়ে অপর রিট করেন সেখানকার বাসিন্দা জাবেদ মিয়া। চারটি রিটই ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে ওই একই বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন এই তিনটি রিটের শুনানি অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য মুলতবি করেন আদালত। এরপর আর শুনানি এগোয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ৩৪

গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের তল্লা এলাকায় মসজিদে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন ৩৭ জন। তাঁদের ৩৪ জন মারা যান। বিস্ফোরণে নিহত ও দগ্ধ ব্যক্তিদের প্রত্যেককে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চেয়ে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মার-ই-য়াম খন্দকার গত ৭ সেপ্টেম্বর রিট করেন। ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। হাইকোর্ট জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ভুক্তভোগী ৩৭ পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। আদেশ পাওয়া সাত দিনের মধ্যে ওই অর্থ দিতে বলা হয়। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক আবেদন করে। ১৩ সেপ্টেম্বর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে ওই আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়ে চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, আপিল বিভাগ দ্রুত হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য আসে। তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনা পরিস্থিতির কারণে রিটের চূড়ান্ত শুনানি করা যায়নি। এ ধরনের মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

নিমতলী, তাজরীন ও ট্যাম্পকো কারখানায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ে করা তিনটি রিটে অন্যতম আবেদনকারী বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক আইনজীবী সারা হোসেন গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, রিট দায়েরের পর আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে কিছুটা হলেও ভুক্তভোগীদের প্রতিকার মিলেছে। বিশেষত তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সূত্রে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। রিটের পাশাপাশি তাজরীন ও ট্যাম্পাকোর ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের জন্য বাইরের নানান সহযোগিতা প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হয়। ট্যাম্পকোর ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, যদিও তা পর্যাপ্ত ছিল না। রিটের পর আদালতের নজরদারিতে থাকার কারণে বিবাদীদের মধ্যে একধরনের কর্মতৎপরতা ও জবাবদিহি দেখা যায়।

সারা হোসেন বলেন, শ্রম আইনে তখন ছিল শ্রমিক মারা গেলে ১ লাখ টাকা (বর্তমানে ২ লাখ) পাবে, যা পর্যাপ্ত নয় বলে রিটের শুনানিতে এসেছে। ক্ষতিপূরণের সঠিক কোনো মানদণ্ড শ্রম আইনে না থাকা এবং ২ লাখ টাকা একজন নাগরিকের জীবনের মূল্য কোনোভাবেই হতে পারে না—এ বিষয়েও আদালতে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে দুঃখজনক হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কোনো রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। নিষ্পত্তি হলে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করেন তিনি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন