রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ (​ই​উপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩১ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র একজন। তাঁর নাম আমেনা বেগম। তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে ইকরচালী ইউপি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানা যায়, তারাগঞ্জে ২৮ মে ইকরচালী, হাড়িয়ারকুঠি, কুর্শা, আলামপুর ও সয়ার ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ভোট হবে। সব কটি পদেও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও কোনোটির মনোনয়ন তালিকায় নেই নারী প্রার্থী। নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলোতেও একই রকম চিত্র।

ক্ষমতাসীন দল থেকে কোনো নারী প্রার্থী না রাখার কারণ হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিয়ার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নারীদের প্রতি আমাদের দল সহনশীল। সমস্যা হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো আগ্রহী নারী ছিলেন না। ফলে পুরুষদের হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না।’

একই কথা জাতীয় পার্টিরও। উপজেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি আলী হায়াত খান বলেন, ইচ্ছা থাকলেও নারীদের মধ্যে আগ্রহ না থাকায় তাঁদের রাখা যায়নি। তবে অন্তত একজন নারী প্রার্থী রাখা গেলে ভালো দেখাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আমেনা বেগম নির্বাচনী মাঠে এবারই প্রথম নন। ২০০৩ সালে ইকরচালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি। তবে এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
আমেনা বেগম বলেন, জীবনচলার পথে তিনি অনেক লাঞ্ছনা-বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। নারীরা সাধারণত অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারে না। মুখ বন্ধ করে থাকে। এ সীমাবদ্ধতার বাঁধ তিনি ভেঙে দিতে চান। তিনি আরও বলেন, মানতেই হবে নারীদের অগ্রগতি হয়েছে। তবে যতটা গতি নিয়ে হওয়া দরকার, ততটা হয়নি। স্থানীয় সরকারে নারীদের অবস্থান সংরক্ষিত আসনে। সংরক্ষিত থেকে বের হয়ে না আসা পর্যন্ত মূল উন্নয়নে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। মূল জায়গায় গিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ভাবনা থেকে ফের প্রার্থী হয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন