বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মাসুদ হাসান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্পেক্ট্রা পাহাড় কেটেছে, হ্রদ ভরাট করেছে তা সত্য। এখন কী পরিমাণ কেটেছে, তা পুনঃ তদন্ত করা হচ্ছে। কেটেছে বলেই তাদের পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়। নতুন করে আমরা বিভিন্ন তথ্য নিচ্ছি, কাগজপত্র সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দেব।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির অপর এক সদস্য বলেন, ‘স্পেক্ট্রাকে যে পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে, তার চেয়ে পরিবেশের বেশি ক্ষতি করেছে তারা। বেশি পাহাড় কেটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছি।’

উল্লেখ্য, পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণের অপরাধে গত বছরের ২৯ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিডিএকে ১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি একই সড়কের পাশে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুর মৌজায় পাহাড় কেটে হ্রদ ভরাটের দায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রাকে ৫ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. মোয়াজ্জম হোসাইন।

পরে স্পেক্ট্রা নিজেদের ক্ষতিপূরণের টাকা কমানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মো. রবিউল হক পুনঃ তদন্তের আবেদন জানান। এরপর এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তিন দিন ধরে চট্টগ্রামে বিষয়টির তদন্ত করছে। তারা একাধিকবার পাহাড় কাটার স্থান পরিদর্শন করেছে।

জানতে চাইলে কমিটির সদস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাহাড় কাটা এবং ঝিরি ভরাটের জায়গা পরিদর্শন করেছি। পরিবেশ প্রতিবেশের ক্ষতি করেছে সেটা সত্য। এখন পুনঃ পরিমাপ করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

default-image

প্রতিবেদন দিতে এক মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয় কমিটিকে। এর মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ শেষ হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তখনকার পরিচালক মো. মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, স্পেক্ট্রা সড়কটির পাশে ৫০ থেকে ৬০ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে হ্রদ ভরাট করে সমতল করেছে। এ জন্য ক্ষতি পরিমাপ করে পাঁচ কোটির বেশি টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এরপরও তারা পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিল। এ জন্য অপর একটি মামলা হয়েছিল। এখন তাদের বিষয়টির পুনঃ তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্পেক্ট্রার মহাব্যবস্থাপক মো. রবিউল হক প্রথম আলোকে বলেন, সিডিএর সড়ক নির্মাণের সময় শর্ত ছিল মাটি বাইরে নেওয়া যাবে না। তাই তখন ওখানে ডাম্পিং করা হচ্ছিল। এ সময় ১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু পাহাড় নয়, টিলা নষ্ট হয়েছিল। এ ছাড়া ঝিরিটা কোনো প্রাকৃতিক নয়, এটা পাহড়ি পানি যাওয়ার পথ মাত্র। ক্ষতির চেয়ে বেশি জরিমানা করা হয়েছে। তাই আপিল করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে রবিউল হক বলেন, ‘ওই জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন। আমাদের প্রতিষ্ঠান কিনেছে। কী করবে তা পরে দেখা যাবে। এমনিতে কিনে দখলে রাখা হয়েছে। ঘেরাও দিয়ে নানা নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে তাতে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন