এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছিল, টরন্টোর এই পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক ফ্লাইট মূলত ‘মর্যাদা রক্ষার ফ্লাইট’। এই ফ্লাইট পরিচালনা করতে সরকারের চার কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। ঢাকা থেকে টরন্টো গন্তব্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হতে জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কয়েক বছর ধরে ঢাকা–টরন্টো সরাসরি ফ্লাইট চালুর কথা বলে আসছে। সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২৬ মার্চ (গতকাল) এই ফ্লাইট শুরুর কথা সাংবাদিকদের জানান। বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারের আসন ২৯৮টি।

তবে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন না করেই বিমান কর্তৃপক্ষ ওই ঘোষণা দেয়। বিমান সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও টরন্টোতে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) নিয়োগ দিতে পারেনি তারা। বোর্ডিং সিস্টেম অটোমেশন প্রক্রিয়ার কাজও অসম্পূর্ণ। এসব প্রস্তুতি না থাকায় টরন্টো গন্তব্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করার জন্য জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা–টরন্টো উদ্বোধনী ফ্লাইট নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘কানাডার সঙ্গে একটা ফ্লাইট অপারেট করা আমাদের জন্য মর্যাদার বিষয়। আমরা চিন্তাভাবনা করেই ফ্লাইট অপারেট করছি।’

ওই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টরন্টোর উদ্বোধনী ফ্লাইটে থাকবেন ১২০ জন। এর মধ্যে সাধারণ যাত্রী ৩৬ জন। ফিরতি ফ্লাইটে থাকবেন ১৪০ যাত্রী। সেখানে সাধারণ যাত্রী ১৯ জন।

এর আগে গত ১৯ মার্চ সাধারণ যাত্রীদের জন্য টরন্টোর উদ্বোধনী ফ্লাইটের টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেয় বিমান কর্তৃপক্ষ। তবে টিকিট বিক্রি শুরুর ১৫ মিনিটের মাথায় কোনো টিকিট পাওয়া যায়নি। বিমানের সেলস সেন্টার থেকেও সেদিন জানানো হয়, এই টিকিট ‘সাধারণ যাত্রীদের জন্য নয়’। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে বিমান কিছু টিকিট সাধারণ যাত্রীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানায়।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমান জানিয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইটের মাধ্যমে বিমানের ইতিহাসে নবদিগন্তের সূচনা হলো। এর মধ্য দিয়ে পাশ্চাত্যের বন্ধুপ্রতিম দেশ কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ সহজ হবে। শনিবার রাতে ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন