পুড়িয়ে সাধারণ মানুষ হত্যাসহ সহিংসতার বিরুদ্ধে গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সহিংসতা ও পেট্রলবোমা আন্দোলনের ভাষা হতে পারে না।
পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ: পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ গতকাল বিকেলে নগরের শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে। সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অবরোধ-হরতালের নামে দেশকে একটি জঙ্গিবাদী অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করছে একটি মহল। তারা জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করছে। তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম। সমাবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, বিএনপি ও জামায়াত আন্দোলনের নামে যে সহিংসতা করছে, পুড়িয়ে মানুষ মারছে, সন্ত্রাস দমন আইনে এর বিচার করা উচিত।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন বলেন, সহিংসতা ও পেট্রলবোমা আন্দোলনের ভাষা হতে পারে না। রাজনীতি সাধারণ মানুষের জন্য। সেই সাধারণ মানুষই এখন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি হতে পারে না।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দারের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি বেনু কুমার দে, নারীনেত্রী নূরজাহান খান, বিএমএর সভাপতি মুজিবুল হক খান। সমাবেশে আবৃত্তি পরিবেশন করেন প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের রাশেদ হাসান ও বোধনের অঞ্চল চৌধুরী।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ: স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) গতকাল সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্বাচিপের নেতা মুজিবুল হক খান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বিএমএর সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী।
আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল: সহিংসতা ও পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে নগরের আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেন। সকাল ১০টায় হাসপাতালের সামনে তাঁরা এ মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন সরফরাজ খান চৌধুরী, উপ-সিভিল সার্জন রফিক উদ্দিন প্রমুখ।
হালিশহর বণিক সমিতি: নগরের হালিশহর বড়পোল এলাকায় হালিশহর বণিক সমিতি আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন শতাধিক ব্যবসায়ী।
মোটর শোভাযাত্রা: সকালে বন্দর ভবনের সামনে থেকে সাংসদ এম এ লতিফের নেতৃত্বে মোটর শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় পেট্রলবোমায় পুড়ে যাওয়া ব্যক্তির প্রতীকী লাশ নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। শোভাযাত্রাটি বন্দর ভবন থেকে শুরু হয়ে নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বন্দর এলাকায় সাংসদ এম এ লতিফের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
সাংসদ এম এ লতিফ বলেন, ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে মানুষের বিবেক যেন জেগে ওঠে, সে জন্য এই কর্মসূচির আয়োজন করেছি।’
শোভাযাত্রায় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সফর আলী, নগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল আলম, নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইসহাক প্রমুখ অংশ নেন।
নোয়াখালীতে মানববন্ধন: নোয়াখালী অফিস জানায়, বিএমএ ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতাল চত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
একই সময় নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ এবং নোয়াখালী চিকিৎসা সহকারী প্রশিক্ষণ স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে একই কর্মসূচি পালন করেন।
ফেনীতে মানববন্ধন: ফেনী অফিস জানায়, সারা দেশে অব্যাহত সহিংসতার প্রতিবাদে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করেছেন। গতকাল বেলা ১১টায় ফেনী সদর হাসপাতাল চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে সিভিল সার্জন মো. ইউছুফসহ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন