default-image

বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা মুসলিমা খাতুন মেয়েকে খুশির খবর দিতে এসেছেন। মেয়ে মিফতাহুল জান্নাত ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। খবর শুনে মিফতাহুল বলল, ‘আব্বু, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে তোমার স্বপ্ন আমি পূরণ করেছি। কিন্তু আমার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।’

হাসপাতালের শয্যায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে মিফতাহুল। মাঝেমধ্যে বন্ধ চোখ মেলছে। তার দুটি পায়ের একটি নেই। পায়ের ওই অংশ মোড়ানো রয়েছে সাদা রঙের ব্যান্ডেজে।

ডান হাতটিও ব্যান্ডেজ করা। শয্যার ওপর কনুইয়ে ভর করে উঁচু করে রাখা হয়েছে হাতটি। মাথার ধারে একটি চেয়ারে বসে মেয়ের মাথায় হাত বোলাচ্ছেন মা। পাশে বাবা।

মিফতাহুল জান্নাত (১১) শার্শা উপজেলার বুরুজবাগান পাইলট বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তাঁদের বাড়িও বুরুজবাগান গ্রামে। ২০ মার্চ যশোরের শার্শা উপজেলার বুরুজবাগান পাইলট বিদ্যালয়ের সামনে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি পিকআপের চাপায় ডান পা হারায় জান্নাত। বর্তমানে সে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত রোববার বিকেলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। মিফতাহুল শার্শা উপজেলার বুরুজবাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে মা মুসলিমা খাতুন বলেন, ‘মেয়ে আমার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। আজ ওর কত আনন্দ করার কথা। কিন্তু সে বিছানায় শুয়ে আছে। ভালো খবরেও ওর কোনো আনন্দ নেই।’ শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় মিফতাহুল জান্নাত জিপিএ-৫ পেয়েছিল। রোববার বিকেলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

২০ মার্চ সকালে ভ্যানে করে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল জান্নাত। বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে উল্টো দিক থেকে আসা বিদ্যুৎ বিভাগের একটি পিকআপ ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে জান্নাত মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে। এ সময় পিকআপের চালক পিকআপটি তার শরীরের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেন। এতে তার ডান পা ও ডান হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জান্নাতকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে বাদ দেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন