default-image

সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত ১২৩টি দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজারের মতো মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বে ৪ হাজার ২৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসের কারণে।

এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বাংলাদেশও এই ভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত নয়। সংক্রমণ কমাতে জনসমাগম এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হলেও খোলা রয়েছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। এ পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ খোলা রাখা কতটা যৌক্তিক এই বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল প্রথম আলোর ফেসবুক পেজের অনুসারীদের কাছে।

বিপুলসংখ্যক পাঠক মন্তব্য করেছেন সেখানে। দিয়েছেন তাঁদের মতামত ও পরামর্শ। অধিকাংশ পাঠকই স্কুল–কলেজ বন্ধ রাখার পক্ষপাতী। তবে কেউ কেউ দ্বিমতও পোষণ করেছেন। ফারাহ দীবা দীপ্তি লিখেছেন, ‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা উচিত! উন্নত বিশ্বে উন্নত চিকিৎসার এত সুব্যবস্থার পরও তারা করোনাভাইরাসের চিকিৎসাতো দূর, মৃত্যুও ঠেকাতে পারছে না! সেখানে বাংলাদেশ কীভাবে সামাল দেবে, আল্লাহই জানেন! শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলে অন্তত আমরা আমাদের সন্তানদের সুরক্ষা করার বা রোগ হয়ে থাকলে তা থেকে অন্যের মাঝে সংক্রমিত হওয়াটাতো রোধ করতে পারব।’

মো. সোহেল লিখেছেন. ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গণজমায়েত হয় এমন প্রতিষ্ঠান, স্থান বন্ধসহ নানামুখী সচেতনতামূলক ব্যবস্থা করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

এনামুল হকও স্কুল বন্ধ রাখার পক্ষে। তিনি লিখেছেন, ‘সবার মঙ্গলের কথা বিবেচনা করে অবশ্যই স্কুল বন্ধ রাখা উচিত। বেঁচে থাকলে পড়াশোনা পরবর্তীতে চালিয়ে নেওয়া যাবে।’

নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী লিখেছেন, ‘একজন শিক্ষক হিসেবে আমার অবজারভেশন হলো, প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা মোটেও উচিত হবে না, বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।’

এখনই স্কুল-কলেজ বন্ধের পক্ষপাতী নন অনেকেই। তাঁরা মনে করছেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে স্কুল বন্ধ করা উচিত। নাজমুল হুদা লিখেছেন, ‘যেহেতু এখনো আমাদের দেশের কেউই নতুন করে আক্রান্ত হয়নি, যাঁরা হয়েছে তাঁরা বিদেশ থেকে আসা, সুতরাং এখনই বন্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না।’

সানজিদা পারভিন রিয়া লিখেছেন, ‘এখনো বাংলাদেশে এতটা মহামারি হয়নি, তাই স্কুল–কলেজ এখনই অফ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নাই। তবে সব থেকে বড় ভুল বাইরে দেশ থেকে কাউকে দেশে আসতে দেওয়া, না আসতে দিলে বাংলাদেশে এইটা হতো না।’

ওয়াহিদ নিঝুম লিখেছেন, ‘করোনাভাইরাস শিশু ও তরুণদের এফেকটেড হওয়ার মাত্রা খুবই সামান্য। ০.৩%–এর কাছাকাছি। তাই স্কুল কলেজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। খোলা থাকাই উচিত। কেননা, এটা বন্ধ করে দিলে জনমনে আরও আতঙ্কের সৃষ্টি হবে।’

শাহরিয়ার সায়হান সেলিম লিখেছেন, ‘সম্ভব হলে সবার আগে সকল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করা জরুরি বলে আমি মনে করি। তারপর স্কুল কলেজ বা বাকি প্রতিষ্ঠান।’

বেশির ভাগ পাঠকদের মতোই ফাহমিদা রহমান লিখেছেন, ‘স্কুল খোলা রাখার পক্ষে কোনো যুক্তিই নেই। আমরা কেন অপেক্ষা করছি? কোভিড-১৯ কেস বাড়বে তারপর সিদ্ধান্ত হবে? আমি অন্তত আমার বাচ্চাদের আর স্কুলে পাঠাব না।’

রিমন আদিত্য রায় লিখেছেন, ‘এই জনবহুল বাংলাদেশে ভাইরাস সংক্রমণ একবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে দ্রুত সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই যা করার আগেই করা উচিত।’

ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন আলী লিখেছেন, ‘আমার মতে সরকারের ঝুঁকি নেওয়া উচিত হবে না। এখনই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা উচিত এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া উচিত।’ মো. জামাল লিখেছেন, ‘আমি একজন প্রবাসী। বহির্বিশ্বে সকল স্কুল–কলেজ বন্ধ ঘোষণা করেছে, কিন্তু বাংলাদেশের সরকার কেন বন্ধ করছে না? বাচ্চাদের কিছু হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে।’

রিয়াজ মাহমুদ ও স্কুল বন্ধ করার পক্ষে। তিনি লিখেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভেতরে কেউ আক্রান্ত হলে তখন বন্ধ করে কী লাভ, এখনই বন্ধ করা উচিত।’ শেখ মো. সুমনের ও একই মতামত। তিনি লিখেছেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনই বন্ধ করলে পরিস্থিতি বেশি দূর গড়াবে না। পরিস্থিতি খারাপ হাওয়ার পর বন্ধ করলে কোনো লাভ হবে না।’

মো. সাইফুদ্দিন সাকিব লিখেছেন, ‘স্কুল খোলা রাখা মানেই হলো আমরা এ ভাইরাস সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ। ১/২ মাস স্কুল খোলা থাকলে বাংলাদেশের বিশাল কোনো জয় হবে না বরং বন্ধ থাকলেই আমরা এ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারি। পাশাপাশি শহরের বড় বড় জমায়েত কেন্দ্রগুলোও সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের এক শ ফোঁড়েও সমান হয় না।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0