default-image

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘একদলীয় রাজনীতি’ (সিয়াসাহ আল হিযব আল-ওয়াহিদ) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মূল্যায়ন করেছিলেন ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত। ২০১২ সালের ১০ মে রিয়াদে পাঠানো এক কূটনৈতিক বার্তায় তিনি এ কথা জানান। উইকিলিকস ওয়েবসাইটে সদ্য প্রকাশিত তারবার্তাগুলোর মধ্যে একটিতে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে ঢাকার সৌদি দূতাবাসের কোনো মন্তব্য জানা যায়নি। অবশ্য উইকিলিকস বিষয়ে বিশ্বের অন্যান্য সৌদি দূতাবাস ও সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নীরবতা পালন করছে।
উইকিলিকস ওয়েবসাইটে প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এ পর্যন্ত পাওয়া বাংলাদেশে রাজনীতি-সংক্রান্ত কিছু গোপন নথি পর্যালোচনায় বিরোধী বিএনপি ও জামায়াতের প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন সহানুভূতির বিষয়টি লক্ষ করা গেছে। যদিও সৌদি আরবের সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে জামায়াত ও রাজনৈতিক সংকট মেটাতে মধ্যস্থতা করতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুরোধে সাড়া দেয়নি। একাধিক নথিতে এই ইঙ্গিতও স্পষ্ট যে, সৌদি প্রশাসনের ভেতরের অন্তত কোনো কোনো মহল মনে করে, যুদ্ধাপরাধের বিচারে ক্ষমতাসীন দলের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ ছিল।
২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আল-বুসাইরি ছিলেন ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এমন কিছু বাংলাদেশি রাজনীতিক জানিয়েছেন যে, তিনি চমৎকার ইংরেজি বলতেন এবং খুবই মিশুক ছিলেন। বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতি তাঁর সমালোচনাপূর্ণ মনোভাব তিনি খুব গোপন রাখতেন না।
১৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৩ (১০ মে ২০১২) সৌদি রাষ্ট্রদূত আল-বুসাইরি উল্লিখিত বার্তায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানান, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মনোযোগ বেড়েছে। তদুপরি দেশটির অর্থনৈতিক উন্নতিও অব্যাহত রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান সৃষ্টি হবে, তবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অব্যাহতভাবে আমেরিকা ও ভারতের সমর্থন পেয়ে যাচ্ছে, যা তাকে (বর্তমান সরকার) বিরোধীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মাধ্যমে চাপে রাখার সুযোগ এনে দিয়েছে। আর সরকার একদলীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
সৌদি রাষ্ট্রদূতের এই মনোভাব সম্পর্কে মন্তব্য চাওয়া হলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস)-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জঙ্গিবাদ প্রশ্নে ভারত-মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি এক হলেও যুদ্ধাপরাধের বিচার ও নির্বাচন প্রশ্নে ভারতের থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে ভিন্নতা ছিল। সুতরাং এখানে সরলীকরণ করা হলে তাতে সৌদি আরবের পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন পাওয়া যেতে পারে। যদিও জামায়াতের প্রস্তাব নাকচ করার মধ্যে তাদের প্রজ্ঞার পরিচয় মিলেছে।’
যুদ্ধাপরাধের বিচারকেও চাপে রাখার কৌশল হিসেবে সৌদি দূতাবাসের মূল্যায়ন হয়ে থাকতে পারে। কারণ, ২০১২ সালের ১০ মে প্রেরিত ওই তারবার্তার মাত্র তিন মাস আগেই অপর একটি গোপনীয় তারবার্তায় (নং ২১৮/৭/৩/৩২৫ তাং ২০/৩/১৪৩৩) সৌদি দূতাবাস তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল সউদকে (এখন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বাদশাহর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা) জানিয়েছিল: ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে “প্রতিশোধ গ্রহণ” করা।’ এই বার্তাটির পুরো অংশ পাওয়া যায়নি।
ড. ইফতেখারুজ্জমান ও সুজনের ড. বদিউল আলম মজুমদার ক্ষমতাসীন দলের তরফে একদলীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সৌদি মনোভাবের প্রতি সায় দিয়েও উভয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ‘প্রতিশোধ গ্রহণ’ হিসেবে দেখার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিরোধী দলকে চাপে রাখার সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে এক করে দেখার বিষয়ে সৌদি দূতাবাসের পেশাদার কূটনীতির প্রজ্ঞা নয়, তাদের মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে।’ ড. বদিউল আলম মজুমদারের কথায়, ‘এই প্রশ্নে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দ্বিমত করব। কারণ অপরাধের বিচার হতেই হবে, আর অভিযুক্তরা যথারীতি বিচারের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।’ তবে তিনি গত দুই দিনে প্রথম আলোয় প্রকাশিত সৌদি নথির আলোকে বলেন, বাংলাদেশ রাজনীতি বিষয়ে নেওয়া সৌদিদের সঠিক ধরনের দৃস্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সৌদি নথি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তবে ‘একদলীয় রাজনীতি’ বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল পলাশে আমাদের এক ইফতার পার্টিতে আওয়ামী লীগের শ দুয়েক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ইফতার মাহফিলের মঞ্চ তছনছ ও এক হাজার লোকের ইফতার লুট করেছে, এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিদিনই দেশের এখানে-সেখানে এমনটা ঘটছে, যা নিশ্চিত করে যে, বাংলাদেশে এখন বহুদলীয় গণতন্ত্র মৃত।’
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী পাসের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাবদলের পথ রুদ্ধ করা হয়, যা কার্যত একদলীয় ব্যবস্থার পথ প্রশস্ত করেছে।
সৌদি বার্তার এই মূল্যায়নের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সৌদি নথির বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে, যেকোনো বিষয়ে বিভিন্ন দেশের যেকোনো রকমের দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। কেউ গ্লাসের অর্ধেক খালি, আবার কেউ অর্ধেক পূর্ণ দেখতে পারেন। একদলীয় রাজনীতির ধারণার সাথে বাস্তবতার মিল নেই।’
ড. বুসাইরি তাঁর এক পৃষ্ঠায় সমাপ্ত ওই বার্তায় লেখেন, ‘যদিও এই সময়ে বর্তমান সরকার বিভিন্ন নানামুখী অস্থিরতা ও বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিরোধী বিএনপির নেতাকে গুম করা হয়েছে।’
ধারণা করা যায়, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। ২০১২ সালের ১০ মে প্রেরিত বার্তাটির নিচে নীল কালিতে ড. আল-বুসাইরির সই শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
একাধিক বার্তায় দেখা যায়, সৌদি আরব বাংলাদেশে মার্কিন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সফরের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখছে। ওই বার্তাটির সঙ্গে বুসাইরি ২০১২ সালের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তা, যাঁরা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন তাঁদের নামের তালিকা রিয়াদে প্রেরণ করেন।
আরেকটি পৃথক নথি পাওয়া গেছে যার শিরোনাম, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন’। ২০১২ সালের নভেম্বরে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল সউদ তাঁর প্যাডে লেখা এক চিঠিতে ঢাকা থেকে ওই শিরোনামে পাঠানো দূতাবাসের তারবার্তা বাদশাহ আবদুল্লাহর কাছে প্রেরণ করেন এবং একই সঙ্গে তার অনুলিপি দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও দেন। অথচ এতে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনার বিশ্লেষণ ছিল না।
২০১২ সালের নভেম্বরে ঢাকার দূতাবাসের বরাতে বাদশাহ আবদুল্লাহর কাছে প্রেরিত ওই বার্তায় বলা হয়, ‘সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী জাতীয়তাবাদী দলের কর্মীদের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে, যাতে অনেকে আহত ও নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্তে নিরাপত্তা বাহিনী ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে, যাতে দুই পক্ষেই হতাহত হয়েছে এবং জামায়াতের দলটির অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বিক্ষোভ এবং সহিংসতার তীব্র নিন্দা করেছেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও পরিষ্কার করে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সহিংসতার উদ্দেশ্য হচ্ছে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও দেশের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটানো। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হস্তে এগুলো দমন করবে। পার্লামেন্টে সরকারদলীয় সদস্যরাও এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছেন এবং যুদ্ধাপরাধের বিরোধিতাকারীদের শরিয়া আইনে বিচার করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে তাঁরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।’
এরপর ওই বার্তায় বলা হয়, ‘পার্লামেন্ট সদস্যগণ (বিচার বন্ধ করার) ওই হুমকিকে দেশের সংবিধানবিরোধী বলে মনে করেন। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংলাপের যে পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁরা তাও প্রত্যাখ্যান করেছেন। সহিংসতার ধারাবাহিকতায় জামায়াতের সমর্থকেরা আইনমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।’
‘অপরদিকে বিরোধীদলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ উত্তরাঞ্চলে রেলের টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিরোধী দল আহূত সমাবেশ করতে না দেওয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়াবাড়ি সমালোচনা করেছেন। তাঁরা ঢাকায় এবং কয়েকটি প্রধান শহরে বিক্ষোভ করেছেন। বিরোধী রাজনীতিবিদদের ওপর সরকারি দমন নীতি, দুর্নীতির ব্যাপকতার প্রতিবাদ এবং সাধারণ নির্বাচন পরিচালনায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে আছেন। এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিষয়ক সহকারী সচিব বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।’ এই বার্তাটির পরের অংশ পাওয়া যায়নি।
তারিখ উদ্ধার করতে না পারা আরেকটি তারবার্তায় যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে সৌদি আরবের ঢাকার দূতাবাসের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। ধারণা করা যায়, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে এটি লেখা হতে পারে।
সৌদি দূতাবাস রিয়াদে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক দাপ্তরিক নোটে জানায়, ‘বর্তমান সরকার তার সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন লাভে সক্ষম হয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সব সময় এ বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে আসছিল যে, বিচারটি হতে হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এবং স্বচ্ছ।’
এরপর ওই বার্তায় বলা হয় ‘এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই হলেন বিরোধীদলীয় এবং বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির সদস্য এবং তাদের কেউ এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল এবং শরিক জাতীয় পার্টির সদস্য নন। যাতে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, এই বিচারের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক এবং এই বিচারের বিষয়ে বিরোধী দল প্রবল প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত অবনতি আর সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের মনে ক্ষোভ আছে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০১০ সালে প্রথম অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। ২০১২ সালের নভেম্বরের মধ্যে জামায়াতের নয়জন ও বিএনপির দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। ওই বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদ আল ফয়সাল মরহুম বাদশাহ আবদুল্লাহকে আরও জানিয়েছিলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারের সমর্থকদের মধ্যে এ বিষয়ে সংঘর্ষ সরকারকে এ বিচার-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে দ্বিধান্বিত করতে পারে বলে দূতাবাস মনে করে। কারণ সরকার ভয় করে, এর পরিণতিতে দেশে নৈরাজ্য এবং নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এটা প্রতীয়মান হয় যে, এই বিচারের সর্বশেষ শাস্তি হবে অভিযুক্তদের ফাঁসির মাধ্যমে শাস্তি প্রদান, যা বাংলাদেশকে এক সীমাহীন অন্ধকার গহ্বরে নিক্ষেপ করবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0