‘যারা হরতাল-অবরোধ দেয়, তাগর তো বাড়ি-গাড়ি সবই আছে। তাগর তো ভাত-কাপড়ের চিন্তা নাই। আমরা তো গরিব মানুষ। সারাক্ষণ পেটের চিন্তা করন লাগে। ঢাকা থাইক্যা মালামালের কোনো ট্রাক আসতাছে না। কোনো কাজকামও নাই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা বাঁচমু ক্যামনে?’
গত রোববার এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন দিনমজুর মো. জামির উদ্দিন (৩৫)। তিনি শেরপুর শহরের খরমপুর এলাকার একটি স্যানেটারিসামগ্রীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করেন।
জামির জানান, সারা দিন কাজ শেষে মালিক যে মজুরি দেন, তা দিয়েই তিনি কোনোমতে চারজনের সংসার চালান। স্বাভাবিক কর্মদিবসে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পেলেও আজ (রোববার) পেয়েছেন ৫০ টাকা।
আজগর আলী (৩২) ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কে চলাচলকারী ড্রিমল্যান্ড পরিবহনের একটি বাসের চালকের সহকারী। হরতালে বাস চলছে না। তাই নবীনগর বাস টার্মিনালে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের কারণে এক মাসের বেশি সময় ধইরা ঠিকমতো গাড়ি চলতাছে না। গাড়ি বন্ধ থাকলে মালিক তো খোরাকির টাকা দেয় না। আমরা এমন হরতাল চাই না, যেই হরতালে আমরার কামাই-রোজগার বন্ধ হইয়া যায়। বউ-পোলাপান লইয়া খাইয়া না-খাইয়া থাকন লাগে।’
শেরপুর শহরের পরিবহন ব্যবসায়ী তাপস রায় বলেন, ‘গাড়ি কিনতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। এভাবে দিনের পর দিন গাড়ি বন্ধ থাকলে ব্যাংকের ঋণ শোধ করব কীভাবে? এমন অবস্থার অবসান চাই।’
জীবন বীমা করপোরেশন, শেরপুর শাখার উন্নয়ন ব্যবস্থাপক ভূপতি চরণ পাল (৫৯) বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু রাস্তাঘাটে যেভাবে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তাতে চরম আতঙ্কে ভুগছি। একে তো যানবাহন নেই, তার ওপর ঢাকায় গিয়ে কোনো বিপদে পড়ি, তাই রাজধানীতে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না।’
শহরের কান্দাপাড়া এলাকার ইউনাইটেড রাইস মিলের চাতালশ্রমিক শ্যামলী বেগম (৪৫) বলেন, ‘হরতাল-অবরোধ বইল্যা গাড়ি চলে না। তাই বাইর থাইক্যা পাইকাররাও চাল কিনবার আহে না। মালিক মিল বন্ধ রাখছে। কাম নাই, আইজ তো মালিক আমগর বেতন দিব না। তাইলে আমরা পোলাপান নিয়া ক্যামনে বাঁচমু?’
শেরপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. মাসুদ বলেন, ‘হরতাল-অবরোধে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ জন্য শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার ও বিরোধী দলকে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানাই। আমরাও শান্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারব।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন