সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মৃত্যু হওয়া চার বাংলাদেশির মধ্যে কুমিল্লায় দুজনের গ্রামের বাড়িতে চলছে কেবলই কান্না। এ দুজন হলেন নাঙ্গলকোট উপজেলার জিনিয়ারা গ্রামের জিয়াউর রহমান এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চাপাচৌঁ গ্রামের আবু মুসা।
গতকাল মঙ্গলবার জিনিয়ারা ও চাপাচৌঁ গ্রামে জিয়াউর ও মুসার বাড়িতে গিয়ে শোকাবহ পরিবেশ দেখা গেল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন।
জিনিয়ারা গ্রামের প্রয়াত আবুল কালাম ও মাফিয়া খাতুনের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে জিয়াউর রহমান (৩৫) সবার বড়। গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করে কয়েক দিন পরই সৌদি আরবে চলে যান তিনি। তিন মাস আগে তাঁর একটি পুত্রসন্তান হয়। সন্তানকে কোলে নিয়ে বিলাপ করছিলেন তাঁর স্ত্রী লিপি আক্তার। বলছিলেন, ‘তিন মাসের শিশুটির কী হবে? কেন আমার এমন ভাগ্য হলো।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের চাপাচৌঁ গ্রামের আবু মুসা (৫৮) ছয় মাস আগে স্ত্রী ও চার সন্তানের সঙ্গে সময় কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যান। স্ত্রী হনুফা বেগম তাঁর স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই কয়েক দফায় জ্ঞান হারান।
সৌদি আরবের দাম্মামের দাল্লা সানাইয়া এলাকায় রোববার স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজনই বাংলাদেশি। অন্য দুই বাংলাদেশির একজন ফেনীর দাগনভূঁঞার মীর রহমান এবং আরেকজন চাঁদপুর সদর উপজেলার আবু মোল্লা। বাকি দুজনের একজন পাকিস্তানের ও একজন ভারতের নাগরিক।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন