'চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গণপরিবহনে নৈরাজ্য টিকিয়ে রাখছে'

বিজ্ঞাপন
default-image

‘রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা। এই সিন্ডিকেট নিজেদের স্বার্থে গণপরিবহনে নৈরাজ্য টিকিয়ে রাখছে। কারণ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে। যত বেশি অব্যবস্থাপনা-নৈরাজ্য, তত বেশি অবৈধ উপার্জন—এটাই তাদের অপকৌশল।’

এ অভিযোগ সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আজ শনিবার ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়নে বিলম্ব: জনমনে হতাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এসব অভিযোগ করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। বক্তব্যে বলা হয়, দেশে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে কিংবা কোনো দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনবিক্ষোভ তৈরি হলে সরকার সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে তৎপরতা দেখায়। এরপর অন্য আরেকটি ঘটনা ঘটলে মানুষের মনোযোগ সরে যায়, সেই সঙ্গে সরকারের তৎপরতাও থেমে যায়। কিন্তু দুর্ঘটনা বিরামহীনভাবে ঘটতে থাকে। এভাবেই চলছে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ পাস করে। দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল, নতুন আইনের মাধ্যমে দেশের গণপরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। কিন্তু সেই আইনের বাস্তবায়নই শুরু হয়নি।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আপত্তির কারণে সড়ক পরিবহন আইনটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না উল্লেখ করে বলা হয়, মূলত সড়ক পরিবহন আইনে জামিন অযোগ্য ধারা, সাজা ও জরিমানা বৃদ্ধির বিধান থাকায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা আইনটি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছেন। তাঁরা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে পছন্দ করেন। তাঁরা সব সময় জোর করে ধর্মঘটের মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায় করতে চান।

২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনে বেশ কিছু অসংগতি আছে বলে মনে করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান। তিনি বলেন, এ আইনে আদালতের অধিকারের ব্যাপ্তিকে (জুরিসডিকশন) অস্বীকার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হওয়া ব্যক্তি যেন ক্ষতিপূরণের জন্য আদালতে যেতে না পারে, তা এ আইনে নিশ্চিত করা হয়েছে। এ আইনে ক্ষতিপূরণের জন্য একটি আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ যেন দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তির অধিকার নয়, বরং সরকারের দয়াদাক্ষিণ্যের বিষয়।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, দেশে লাইসেন্সধারী চালকের অভাব আছে। তিনি বলেন, আইন ও জরিমানা দিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। এ জন্য চালকদের অধিকার ও দাবিগুলোর প্রতিও নজর দিতে হবে। পরিবহনশ্রমিকদের কোনো কর্মঘণ্টা নেই, বিশ্রামের ব্যবস্থা নেই। তাঁদের অনেক না পাওয়ার হতাশা আছে, প্রতিদিনের গ্লানি আছে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন