‘আমাদের জিম্মি করে দুটি দলই রাজনীতি শুরু করেছে। দল দুটি একসঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করলে দেশের ভালো হয়। আল্লাহপাক যেন তাদের সুমতি দেন।’
হরতাল-অবরোধে ৩৫ দিন ধরে বেকায়দায় থাকার পর নিকলী-ঢাকা সড়কের বাসচালক উসমান মিয়া এভাবেই নিজের হতাশার কথা বললেন। জীবনের মায়া ত্যাগ করে গাড়ি চালাতে বাধ্য হলেও যাত্রী না থাকায় এখন তেলের দামও উঠছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহবুব আলম বলেন, নিকলীতে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলের জন্য ২৪ ঘণ্টা পুলিশ রাস্তায় আছে।
কিন্তু জারুইতলা ইউনিয়নের ইজিবাইকচালক আল আমিন মিয়া এর উল্টো চিত্রের কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘সারা দিন চোরের মতো ভয়ে ভয়ে গাড়ি চালাতে হয়। যাত্রীরাও ভয়ে গাড়িতে উঠতে চান না। দেশের এ পরিস্থিতির জন্য কে দায়ী আর কে দায়ী নয়, তা আমরা জানতে চাই না। আমরা চাই শান্তি, নির্বিঘ্নে কাজ করে সংসার চালাতে।’
নিকলী অটোরিকশা-টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মুর্শেদ মিয়া বলেন, নিকলীতে বাস, অটোরিকশা, ট্রাক, ইজিবাইক, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিক শ্রেণির মানুষকে না খেয়েই মরতে হবে। আর কত দিন এভাবে মানুষ জিম্মি থাকবে?
সিংপুর ইউনিয়নের রাম প্রসাদ দাস বলেন, হরতাল-অবরোধে এসএসসি পরীক্ষর্থীরা পড়েছে বিপাকে। সিংপুর থেকে নিকলী সদরের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে আসে। কিন্তু মোটরসাইকেলের চালকেরা যাত্রী নিয়ে যেতে চান না। তাঁরা (মোটরসাইকেলচালক) বলেন, যাত্রী নিয়ে চলাচলে পুলিশের নিষেধ আছে।
সবজি ব্যবসায়ী নেপাল সাহা বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে আলু, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি অন্য এলাকা থেকে কম আসছে।
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়লেও দুই দলের স্থানীয় নেতারা পরস্পরবিরোধী কথা বললেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হরতাল-অবরোধ কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নয়। মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে নেত্রী হওয়া যায় না।’ নিকলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বদরুল মোমেন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ অবরোধ দিয়েছি। ২০-দলীয় জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের দাবি করে আসছে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন