default-image

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত রেলওয়ে গড়ে তোলার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি। রেলের টিকিটিং ব্যবস্থায় কোটা পদ্ধতি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন রেলের ভূমি দখলে না রাখতে পারে, সে জন্য কাজ করা হচ্ছে।’

গত এক বছরে বর্তমান সরকারের রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও অর্জন নিয়ে আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রেলভবনে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৩৯ কিলোমিটার নতুন রেলপথ, ৩৭টি নতুন রেলসেতু, পাঁচটি নতুন স্টেশন বিল্ডিং এবং ২৬টি নতুন লেভেল ক্রসিং গেট নির্মাণ করা হয়েছে। এ সময়ে মোট আটটি আন্তনগর ট্রেন চালু করা হয়েছে। তিনটি রুট বর্ধিত করা হয়েছে।

এক বছরে ১২৯টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ১২৯টি দুর্ঘটনার মধ্যে তিনটি বড় দুর্ঘটনা। রেল দুর্ঘটনায় মোট ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। ১৫৫ জন আহত হয়েছেন।

এক বছরে রেলের উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৬টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপিতে বাংলাদেশের রেলওয়েতে ৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প ও ৩টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পসহ মোট ৩৬টি উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত রেলের ৭৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে রেলপথ সম্প্রসারিত হয়েছে এবং রেলের যাত্রী সেবার মান বেড়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে যেসব প্রকল্প চলমান আছে, এর মধ্যে ১১৬২ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার রেললাইন নতুনভাবে নির্মিত হবে বলেও জানান রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ১৪৯টি লোকোমোটিভ, ৭০০টি যাত্রীবাহী ক্যারেজ, ১০০০টি ওয়াগন, ১২৫টি লাগেজ ভ্যান যুক্ত হবে।

মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে আসার পর এই পর্যন্ত ৪০১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হয়েছে। রেলের মোট ৬ হাজার একর জমি বে দখল হয়ে আছে। ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৫৯ দশমিক ৫৭ একর ভূমি অবৈধ দখল মুক্ত করা হয়েছে।

রেলমন্ত্রী বলেন, রোলিংস্টকের সমস্যা দূর করতে জন্য ৪৬টি লোকোমোটিভ (২০টি এমজি, ২৬টি বিজি), ২০ সেট ডিইএমইউ, ৪১২টি যাত্রীবাহী ক্যারেজ, ৫১৬টি ওয়াগন ও ৩০টি ব্রেকভ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ছয়টি রিলিফ ক্রেন, ২টি ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও ২টি লোকোমোটিভ সিমুলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে। ১১১টি স্টেশনে সিগন্যালিং ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ১৩৫টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে ও ৪০টি বিদ্যমান ট্রেন সার্ভিস অথবা রুট বর্ধিত করা হয়েছে। ৬২টি বন্ধ রেলস্টেশনের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

এক বছরে মোট আটটি আন্তনগর ট্রেন চালু ও তিনটি রুট বর্ধিতকরণ করা হয়েছে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে বনলতা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন চালু করা হয়েছে। বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। আগামী ২৬ জানুয়ারি পাবনা-রাজশাহী-পাবনা রুটে চলাচলকারী পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট ঢালারচর পর্যন্ত এবং ফরিদপুর-রাজবাড়ি-ভাটিয়াপাড়া রুটে চলাচলকারী ফরিদপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট ভাঙ্গা পর্যন্ত চলাচল শুরু হবে। ওই দিন থেকে পাবনা এক্সপ্রেস ট্রেন নাম পরিবর্তন করে ঢালারচর এক্সপ্রেস এবং ফরিদপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের নাম পরিবর্তন করে রাজবাড়ী এক্সপ্রেস নামে চলবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ-ভারতে চলাচলকারী মৈত্রী ট্রেন সপ্তাহে চার দিনের পরিবর্তে ছয় দিন এবং বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন সপ্তাহে একদিনের পরিবর্তে সপ্তাহে তিন দিন চলবে। ভারতীয় রেলওয়ে কাছ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১০টি ব্রডগেজ এবং ১০টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ বিনা ভাড়ায় সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিডিউল বিপর্যয় রেলওয়ের বড় সমস্যা উল্লেখ করেন রেলমন্ত্রী। রেলমন্ত্রী বলেন, দেশের রেল যোগাযোগে পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের একটি রুট বঙ্গবন্ধু সেতু। পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলের চলাচলের সময় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব ট্রেন ঈশ্বরদীতে এসে যুক্ত হয়। এর মধ্যে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মাত্র লাইন। ২২টি ট্রেন আসা-যাওয়া করতে পারে। কিন্তু সেই জায়গায় ৪২টি চলবে। এ কারণে পশ্চিমাঞ্চলে শিডিউল বিপর্যয় হয়ে থাকে। সেই তুলনায় পূর্বাঞ্চলে এটি কম হয়ে থাকে। ঈদের সময়ে পশ্চিমাঞ্চলে শিডিউল বিপর্যয় ধরে রাখা যায় না। তবে মার্চ মাস থেকে কাজ শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু সেতু ডবল লাইন হবে, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী, জয়দেবপুর-জামালপুর ডবল লাইন প্রকল্প আছে। পদ্মা সেতুসহ রেলপথ উন্নয়নে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0